Skip to content

দশকপ্রবেশ

January 7, 2020

ব্লগ মাধ্যমে আমার যুগপূর্তি হয়নি, এ বছর হবে, প্রথম ব্লগপোস্ট খাদ্য সংকট দিয়ে যাত্রা শুরু হয়েছিল, দশকপ্রবেশ নিয়ে ভাবতে শুরু করে প্রথমেই মনে পড়ল একথা, আর তারপর ভাবছিলাম, এদশকটিও ব্লগ মাধ্যমে আমি থাকতে পারব তো নাকি আরো অনেকের মতো এপথ থেকে ছিটকে পড়ব, জানি না, যদিও দশকপ্রবেশের কথা বলতে গিয়ে আমার অন্যতম আরাধ্য হচ্ছে এই মাধ্যমে টিকে থাকা।

দশের দশকের শুরুতেই বাংলাদেশের ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের বিচারের দায়বদ্ধতার মধ্যে প্রবেশ ঘটেছিল আমার, এই দশক জুড়ে এটা হয়ে গেল আমার অন্যতম পরিচয়, আর আর্ন্তজাতিক অপরাধের বিচারের এই অবস্থানে লগ্ন থাকা এই দশকপ্রবেশের আমার আরেক আরাধ্য।

এই বিশের দশকপ্রবেশে নতুন যুক্ত হবে জলবায়ু জরুরিঅবস্থার কর্মকাণ্ডে সংহতি প্রকাশ ও নিজেকে এই দায়বদ্ধতায় আরো সংহত করার লক্ষ্যে প্রতিনিয়ত এগিয়ে যাওয়া। আন্তর্জাতিক জলবায়ু দায়বদ্ধতার এই মানবিক বিলগ্নি হবে আমার এই দশকপ্রবেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আরাধ্য।

আর শিল্পসমৃদ্ধি, এতে কোনো সন্দেহ নেই, আমি এই বিশ্বকর্মের সাথে নিজের যুক্ততা প্রতি দশকপ্রবেশের অপরিহার্য আরাধ্য বিবেচনা করি।

One Comment
  1. বিশ্বকে বদলে দেওয়া ১০০ দিন
    ঝঞ্ঝামুখর একটি দশক পেরিয়ে এসে ২০১৯ সালের শেষ দিনটিতে একটু দম নিচ্ছিল বিশ্ব, দেশে দেশে চলছিল ২০২০ সালকে বরণ করার প্রস্তুতি।

    তার মধ্যেই ফেলে আসা দিনগুলোর খেরোখাতা লেখা হচ্ছিল পত্রিকায়। বলা হচ্ছিল, গৃহযুদ্ধ, শরণার্থী সঙ্কট, সোশাল মিডিয়ার উত্থান, দেশে দেশে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা জাতীয়তাবাদের মত ঘটনাগুলো, যা কিনা গত এক দশকে বিশ্বের মানুষের বেদনাদায়ক অর্জন, সেগুলো নতুন বছরেও মাথাব্যথার বড় কারণ হবে।

    যারা সেসব লিখেছিলেন, তারা আসলে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলেন ব্ড্ড তাড়াতাড়ি।

    বছরের শেষ দিনটির শেষ মুহূর্তগুলোতে দেশে দেশে মানুষ যখন অধীর হয়ে রাত ১২টা বাজার অপেক্ষা করছে, তার কয়েক ঘণ্টা আগেই ২০১০ এর দশকের সবচেয়ে বড় ঘটনাটির অঙ্কুরোদগম ঘটে গেছে, যার জের এই পৃথিবীকে টানতে হবে বহু বছর।

    ৩১ ডিসেম্বর বেলা ১টা ৩৮ মিনিটে চীনা একটি সরকারি ওয়েবসাইটে জানানো হল, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর উহানে একটি হোলসেল সি ফুড মার্কেট এলাকায় নতুন ধরনের নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ঘট্না ধরা পড়েছে, তবে সংক্রমণের কারণ জানা যায়নি।

    চীনের বাইরে বাকি বিশ্বে ওই খবর একদমই গুরুত্ব পায়নি তখন।

    কিন্তু এরপর ১০০ দিনে মানুষের মুখের হাসি মুছে গিয়ে সেখানে ভর করেছে তীব্র আতঙ্ক, মৃত্যুভয়। খালি চোখে দেখা যায় না, এমন এক ভাইরাস ভোজবাজির মতো পাল্টে দিয়েছে পৃথিবীর চেহারা।

    সেই ভাইরাস আন্তর্জাতিক যোগাযোগ একপ্রকার অচল করে দিয়েছে; থামিয়ে দিয়েছে মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, পৃথিবীর অর্ধেক মানুষকে বন্দি করে ফেলেছে যার যার ঘরের মধ্যে।

    এক কোটি ১০ লাখ মানুষের শহর উহান থেকে ছড়ানো সেই নভেল করোনাভাইরাসের ছোবলে প্রায় পুরো পৃথিবী এখন মৃত্যুপুরীর চেহারা পেয়েছে।

    ১০০ দিনে সেই ভাইরাসের শিকার হয়েছে ১৪ লাখের বেশি মানুষ, প্রাণ গেছে ৮২ হাজার মানুষের। এই সংখ্যাগুলো স্থির নেই, বাড়ছে প্রতি মিনিটে।

    সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিশ্বের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর ব্যক্তিরাও বড় অসহায় এই ভাইরাসের কাছে। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী, ব্রিটিশ সিংহাসনের উত্তরাধীকারী, ইরানের ভাইস প্রেসিডেন্টও সংক্রমণ এড়াতে পারেননি।

    ২০২০ সালের প্রথম প্রহরে মানুষ যখন আতশবাজির খেলা আর পার্টিতে মেতে উঠেছিল, এর সবকিছুই ছিল তাদের কল্পনারও অতীত।

    একটি ভাইরাস কীভাবে মাত্র ১০০ দিনে মানুষের চেনা পৃথিবীকে বদলে দিল, তার একটি ক্রমপঞ্জি তৈরি করার চেষ্টা করেছেন ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে গার্ডিয়ানের মাইকেল সাফি।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: