Skip to content

হাতেকোরাননিয়েমানুষমারছেযারাতারামানুষনয়

November 25, 2015

এটা এখন বিশ্বনেতা ও সেলিব্রিটিদের একটা সমস্যা হয়ে উঠেছে, তারা এক পা এগোতে পারছেন না এবং তারা পেছনেও যাচ্ছেন না, কিন্তু তারা জনস্নেহে সন্ত্রাসবাদকে ধিক্কার দিতে গিয়ে এর সাথে ধর্মের কোনো সম্পর্ক নেই বলছেন, অথচ বুঝতেই চাইছেন না তারা ভুল বলছেন, এবং তাদের এই ভুল বলা আমি আর একেবারেই মেনে নিতে পারছি না। আপনি কোনো মতেই বলতে পারেন না সন্ত্রাসবাদের সাথে ধর্মের কোনো সম্পর্ক নেই, আপনি কোনো মতেই বলতে পারেন না সন্ত্রাসীদের কোনো ধর্ম নেই, আপনি কোনো মতেই বলতে পারেন না হাতে কোরান নিয়ে মানুষ মারছে যারা তারা মুসলিম নয়। সন্ত্রাসবাদ ধর্ম থেকেই উদ্ভূত আপনি যত একে অস্বীকার করবেন ততই আপনার ধর্মেরই ক্ষতি, আপনাকে এটা স্বীকার করতেই হবে সন্ত্রাসবাদের ধর্ম আছে সন্ত্রাসবাদী মুসলিম হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ইহুদি, এবং আপনাকে বলতে হবে কিন্তু সন্ত্রাসবাদী মানুষ নয় সন্ত্রাসবাদী অমানুষ সন্ত্রাসবাদী জঙ্গি নৃশংস অপরাধী। আর এই সহজ কথাটা বলতে পারলেই আপনারা এক পা এগোতে পারবেন এবং আপনাদের জনপ্রিয়তা সংখ্যাগরিষ্ট বা সংখ্যালঘিষ্ট ধর্ম পালনকারীদের কাছে কমবে আশঙ্কা প্রকাশ করলেও অদূর ভবিষ্যতে বাড়বেই এতে আমার কোনো সন্দেহই নেই।

Aamir Khan on intolerance: Kiran asked me if we should move out of India

Aamir Khan joined the intolerance debate and expressed “alarm” and despondency over the rise in such cases “in the last six to eight months”.

Breaking his silence on the raging debate over acts of intolerance, actor Aamir Khan on Monday expressed “alarm” and despondency over the rise in such cases “in the last six to eight months”.

In conversation with Anant Goenka, Wholetime Director & Head — New Media, The Indian Express, at the eighth edition of the Ramnath Goenka Excellence in Journalism Awards, Khan said a sense of “insecurity” and “fear” had seeped deep within society, even in his family.

“(Wife) Kiran and I have lived all our lives in India. For the first time, she said, should we move out of India? That’s a disastrous and big statement for Kiran to make to me. She fears for her child. She fears about what the atmosphere around us will be. She feels scared to open the newspapers everyday. That does indicate that there is a sense of growing disquiet,” he said.

Asked for his view on the trend of writers, artists, historians and scientists returning their awards, Khan said this was one way of getting their point across. “For creative people, to voice what they feel is important. A number of creative people — historians and scientists — have increasingly had a certain feeling that they feel they need to express. One of the ways of expressing their dissatisfaction or disappointment is to return awards.”

He said he would endorse any protest that is non-violent. “As long as you don’t resort to violence, all individuals have a right to protest and they can protest in any manner they feel is right. This is certainly a way to protest for creative people.”

The protests, he noted, were prompted by a growing atmosphere of intolerance around the creative community and the growing sense of insecurity and disappointment over it.

“As an individual, as a citizen, certainly I have also been alarmed, I can’t deny it, by a number of incidents,” he said, “For us, as Indians, to feel a sense of security, two-three things are important. The sense of justice gives a lot of security to the common man. The second thing, that is important, are the people who are the elected representatives, at the state level or the level of the Centre… when people take law in their own hands, we look upon these representatives to take a strong stance, make strong statements and speed up the legal process to prosecute such cases. It doesn’t matter who the ruling party is.”

“On television debates, I see where one political party, in this case, the BJP which is ruling right now, is accused of various things. They said, ‘But what happened in 1984?’. But that doesn’t make right what’s happening now. What happened in ‘84 was disastrous and horrendous. At other times also, through ages, whenever there is a violent act, when an innocent person is killed, be it one or a large number, that’s very unfortunate. And these unfortunate moments are the ones when we look towards our leaders to take a strong step. Make statements that are reassuring to the citizens,” he said.

On the issue of censorship, Khan said though he had had no personal experience with the censors, he was alarmed by their stance. “It (the board) is reacting to things that we, as free people, as adults, should make our own choices on. Essentially the certification board is supposed to mention the age for which the film is suitable. There is no censorship required after the certification. As I understand it now, it has been aggressive in its approach and it is worrying.”

Khan opened up on another issue occupying the news feed, answering queries related to terror. “Acts of terror are not connected to any religion. If he is a Muslim and he engaging in acts of terror, I don’t think he is following Islam. Or for that matter, even a Hindu who is engaging in an act of violence, is not following Hinduism. No religion teaches killing of innocents. When you see an act of terror or violence, instead of calling him a Christian or a Hindu or an Islamic terrorist, you should just call him terrorist and remove the religion tag from it. That’s the first mistake when we label them. It’s just a terrorist who doesn’t have a religion,” he said.

He spoke of growing discomfort within the majority of moderate Muslims over such incidents. “If I’m not mistaken, a number of Muslim organisations have begun to speak openly against the ISIS and similar terror organisations, at least in India,” he said. Voicing his opinion as a Muslim, he said, makes him uncomfortable. “Firstly, why should I be representing anyone? Secondly, I have to represent anyone, why not everyone? Why Muslims? My birth may be in a Muslim household, but I speak for everyone,” he said.

The conversation also led to an interaction with the audience. While Lt Gen Arun Kumar Sahni, GOC-in-C South Western Command, expressed his desire to see more films that show the relationship between India and its neighbours in a positive light, Congress MP Shashi Tharoor spoke about how such an approach can compel people to think about their own deep-seated prejudices and bigotry in their own country.

The Indian Express columnist Tavleen Singh asked Khan about his view on the Paris attackers invoking Islam to justify their act. “A person who is holding a Quran and killing people may feel he is doing it in the name of Islam, but as a Muslim, I don’t feel he is doing an Islamic act. He may claim to be a Muslim but we should not recognise him as that. My problem is not just with the ISIS, the fear is with that thinking. Today there is ISIS, tomorrow it would be someone else. This extreme thinking is what I worry about,” he said.

অসহিষ্ণুতা নিয়ে উদ্বিগ্ন আমির

বাড়তে থাকা অসহিষ্ণুতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে এবার সামিল হলেন আমির খান। জানালেন, তিনি উদ্বিগ্ন। বাড়িতে এ নিয়ে কথা বলার সময়ে স্ত্রী কিরণ রাও এমনকি এ–ও বলেছিলেন, চলো, আমরা ভারত ছেড়ে চলে যাই! যেভাবে বুদ্ধিজীবীরা পুরস্কার ফিরিয়ে অসহিষ্ণুতার প্রতিবাদে নেমেছেন, তাকে সমর্থন করে বললেন, তিনি কী মনে করছেন সেটা জানানো যে–কোনও সৃষ্টিশীল মানুষের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ। অহিংস পথ অবলম্বন করে যে কেউ যে কোনওভাবে প্রতিবাদ জানাতেই পারেন। রাজধানীতে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস আয়োজিত রামনাথ গোয়েঙ্কা এক্সেলেন্স ইন জার্নালিজম পুরস্কারের আলোচনাচক্রে বলিউডের অভিনেতা সোমবার বলেন, ৬ থেকে ৮ মাস ধরে দেশে বেড়ে চলেছে বিভিন্ন অসহিষ্ণুতার ঘটনা। প্রতিদিন সংবাদপত্রে পড়ছি, টিভির খবরে দেখছি। হ্যাঁ, আমি উদ্বিগ্ন। বাড়িতে এই নিয়ে যখন আলোচনা করি তখন স্ত্রী কিরণ বলে, চলো, আমরা এই দেশ ছেড়ে চলে যাই! একটা সর্বনাশা, খুব বড় কথা হয়ত বলে ফেলেছে িকরণ। কিন্তু ও তো মা। সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন। আগামী দিনে আমাদের চারপাশের পরিবেশ কেমন হবে, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। আজকাল খবরের কাগজ খুলতেও কিরণ ভয় পায়। না জানি কী খবর পড়তে হবে! চারদিকে একটা অশান্তি, একটা নৈরাজে‍্যর পরিবেশ। নাম না করেও অসহিষ্ণুতার সমস্যা, দাদরি গণহত্যা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মুখ না খোলায় তাঁকে তুলোধোনা করেন আমির। বলেন, নিরাপত্তাবোধ এবং সুবিচার পাওয়ার আশা যে কোনও সমাজের বিশেষ প্রয়োজন। মানুষ যখন নিজের হাতে আইন তুলে নিচ্ছেন, তখন আমরা আশা করি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এগিয়ে আসবেন। কড়া বিবৃতি দেবেন, আইনের প্রক্রিয়াকে তরান্বিত করবেন। সেটা হলে আমরা নিরাপদ বোধ করি। কিন্তু তা না হলে নিরাপত্তাবোধের অভাব আমাদের গ্রাস করে। আমিরের এই মতের সমর্থনে মুখ খুলেছেন দিল্লির মুখ‍্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। একাধিকবার আমিরের বক্তব‍্যকে রি–টুইট করেছেন তিনি। বলেছেন, বি জে পি–র চুপ করে থাকার মানে হয় না। এখনই দেশের মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত কেন্দ্রীয় সরকারের। সন্ত্রাসবাদ প্রসঙ্গে বলেন, হাতে কোরান নিয়ে নিরপরাধ মানুষকে মারছে যারা, তারা কোনওমতেই মুসলিম নয়। তাদের এক এবং একমাত্র পরিচয়, তারা সন্ত্রাসবাদী।

ধর্ম থেকে সন্ত্রাসবাদকে বিচ্ছিন্ন করতে হবে: মোদি

একসময়ে মনে করা হত সন্ত্রাসবাদ বুঝি দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার প্রান্তিক একটি সমস্যা। কিন্তু যেভাবে গত কয়েক দিনের মধ্যে প্যারিস, আঙ্কারা, বেইরুট, মালিতে একের পর এক সন্ত্রাসবাদী হামলা হল, যেভাবে রাশিয়ার বিমান জঙ্গি হানায় ভেঙে পড়ল, তাতে বোঝা যাচ্ছে সন্ত্রাসবাদই এখন বিশ্বের কাছে সবচেয়ে বড় বিপদ। রবিবার কুয়ালালামপুরে মালয়েশিয়া ইন্টারন্যাশনাল এগজিবিশন অ্যান্ড কনভেনশন সেন্টারে ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের সভায় বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সব দেশকে একজোট হয়ে লড়াই করার ডাক দিলেন। পাকিস্তানের নাম না করেও প্রধানমন্ত্রীর খোঁচা, নিশ্চিত করতে হবে যে, কোনও দেশ যেন সন্ত্রাসবাদের আশ্রয়স্থল না হয়ে দাঁড়ায়। যেভাবে ইন্টারনেট ব্যবহার করে আই এসের মতো জঙ্গি সংগঠন যুবাদের নিজেদের দিকে টেনে নিচ্ছে, তাতে উদ্বেগ জানিয়ে বললেন, সামরিক শক্তির ব্যবহারের পাশে আন্তর্জাতিক আইনকেও জোরদার করতে হবে। যাতে ইন্টারনেট সন্ত্রাসবাদীদের নিয়োগকেন্দ্র না হয়ে দাঁড়ায়। তবে এর ফলে ইন্টারনেটে সরকারি হস্তক্ষেপ কতটা হবে, তা খোলসা করেননি। মোদির মন্তব্য, বিভিন্ন গোষ্ঠীর সন্ত্রাসবাদীরা বিভিন্ন ধর্মকে ব্যবহার করে কিছু বিভ্রান্ত যুবাকে নিজেদের দিকে টেনে নেয়। কিন্তু আসলে এলোপাতাড়ি আক্রমণে ওরা সব ধর্মের মানুষকেই খুন করতে ছাড়ে না। তাই ধর্মের থেকে সন্ত্রাসবাদকে বিচ্ছিন্ন করতে হবে। সমাজের মধ্যে, বিশেষ করে যুবাদের মধ্যে কাজ করতে হবে। এদিন প্রায় এক সুরে কথা বলেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও। মালয়েশিয়ায় আশিয়ান নেতাদের সভায় তিনি বলেন, আমেরিকা এবং তার মিত্রশক্তিরা কখনই জঙ্গিদের খোঁজে ঢিলে দেবে না। আই এস–কে আমরা খতম করবই। ওদের নেতাদের খুঁজে বের করব, অর্থ পাওয়ার সূত্র সব বন্ধ করে দেব।

দেশে অসহিষ্ণুতার বাড়বাড়ন্ত প্রসঙ্গে এ যাবৎ মুখ খুলতে দেখা যায়নি প্রধানমন্ত্রীকে। কিন্তু তিন দিনের মালয়েশিয়া সফরের দ্বিতীয় দিনে ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের সভায় সেই মোদিই বললেন, বহুত্ববাদই ভারতের শক্তি। ভারত এমন একটি দেশ, যেখানে সব সম্প্রদায়ের সমানাধিকার রয়েছে। সংবিধান প্রদত্ত এই অধিকারকে রক্ষা করতে আমার সরকার শপথবদ্ধ। এর আগে তিনি ইস্ট এশিয়া সামিটে বক্তৃতা করেন, ১০ আশিয়ান দেশের নেতাদের সঙ্গে কুয়ালালামপুর ঘোষণায় সই করেন এবং স্থানীয় রামকৃষ্ণ মিশনে গিয়ে স্বামী বিবেকানন্দের একটি ব্রোঞ্জ মূর্তির উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের সময়ে মোদির গলায় ফের শোনা গেল সমন্বয়ের সুর। বললেন, বিবেকানন্দ শুধুমাত্র একটি নাম নয়, তিনি হাজার বছরের ভারতীয় সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের প্রতীক। বিশ্বে এখন সবচেয়ে বড় যে দু’টি সমস্যা, সেই পরিবেশ দূষণ এবং সন্ত্রাসবাদ রোধে বিবেকানন্দের দেখানো পথ নিতে হবে। সত্যকে ভিত্তি করে চলতে হবে। সংঘাত শেষ হলে সন্ত্রাসবাদের মতো সমস্যাও শেষ হবে। বেশ কিছু ঘোষণাও করেন প্রধানমন্ত্রী। যেমন মালয়–ভারতীয় ছাত্রদের তহবিলে ১ লাখ ডলার দেওয়ার কথা ঘোষণা। কুয়ালালামপুরে ভারতীয় সংস্কৃতি কেন্দ্রের নাম করেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর নামে। ভারতীয়দের সভায় ৪৫ মিনিটের বক্তৃতার অনেকটা জুড়েই ছিল দেশের আর্থিক বৃদ্ধিতে তাঁর ভূমিকার কথা। বললেন, ভারতে পরিবর্তনের চাকা ঘুরতে শুরু করেছে, ক্রমশ তার গতি বাড়ছে। বিশ্বে মন্দার হাওয়া, তবুও আমাদের দেশে ৭.৫% হারে আর্থিক বৃদ্ধি হচ্ছে। এই হার আরও বাড়বে।

জাতিসংঘে শেখ হাসিনাসন্ত্রাসীদের কোন ধর্ম নেই, আমিও সন্ত্রাসের শিকার

বিশ্বে মানব সভ্যতার অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে আজ আমরা সবচেয়ে বড় দুটি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছি। যার প্রথমটি হচ্ছে সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস জঙ্গিবাদ। বিশ্বশান্তি ও উন্নয়নের পথে এটি প্রধান অন্তরায়।

জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে এ কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নিউইয়র্কে ৭০তম অধিবেশনের মূল পর্বে অংশ নিয়ে বিশ্ব ফোরামে দেওয়া বক্তৃতায় শেখ হাসিনা জোর দিয়ে আবারও উচ্চারণ করলেন, ‘সন্ত্রাসীদের কোন ধর্ম নেই’।

তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদ এবং জঙ্গিবাদ বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সকল রাষ্ট্রকে একযোগে কাজ করতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি নিজে সন্ত্রাস এবং সহিংস জঙ্গিবাদের শিকার। আমার পিতা বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব, তিন ভাই এবং অন্যান্য নিকট আত্মীয়দের ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। আমি নিজেও কমপক্ষে ১৯ বার সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছি।

সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তার সরকারের অবস্থান তুলে ধরতে বিশ্ব ফোরামে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমার সরকার সব ধরনের সন্ত্রাসবাদ, সহিংস জঙ্গিবাদ এবং মৌলবাদের রিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে বিশ্বাসী।

বাঙালি জাতির গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র ধ্বংসের ষড়যন্ত্রে যারা লিপ্ত রয়েছে, সেসব চরমপন্থী ও স্বাধীনতা-বিরোধী শক্তির মোকাবিলায় তার সরকার সদা-তৎপর, বলেন প্রধানমন্ত্রী।

জাতিসংঘের ৭০তম অধিবেশনে যোগ দিতে ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে সাধারণ অধিবেশনের মূল পর্ব শুরু হয় ২৮ সেপ্টেম্বর। ওই দিন থেকেই বিশ্ব নেতারা এর মূল বিতর্কে অংশ নিচ্ছেন। চতূর্থ দিনের ১১ তম বক্তা হিসেবে নিজের ভাষণ তুলে ধরেন তিনি। আগামী ৩ অক্টোবর পর্যন্ত বিশ্বের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের এই বক্তৃতা চলবে।

Advertisements
8 Comments
  1. বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গণভবনে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদ ও পার্লামেন্টারি বোর্ডের বৈঠকের উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেছেন, “সন্ত্রাসী পথ কোনো সত্যিকার সাচ্চা মুসলমানের কাজ না।

    “মসজিদে নামাজের সময় মানুষ খুন করা কোনো সাচ্চা মুসলমানের কাজ না… সুইসাইড করা কোনো সাচ্চা মুসলমানের কাজ না।”

    গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের ঠিক আগ মুহূর্তে বগুড়ার শিবগঞ্জে শিয়া মুসলিমদের একটি মসজিদে দুর্বৃত্তরা হামলা চালিয়ে মুয়াজ্জিনকে হত্যা করে, গুলিতে আহত হন ইমামসহ তিনজন।

    শেখ হাসিনা বলেন, “যারা ধর্মের নামে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে, তারা বিকৃত মানসিকতার।”

    এই ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বিশ্বে মুসলমানদের জীবন দুর্বিষহ করে তুলবে বলেও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

    আত্মহত্যা ইসলাম ধর্মে পাপ-তা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “মসজিদে গিয়ে সুইসাইডাল বোমা হামলা- এটা কী ভাবে করে?

    “ধর্মের নামে মানুষ হত্যা করে, আত্মহত্যা করে ইসলাম ধর্মের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করছে। এতে বিশ্বে মুসলমানদের জীবনযাত্রা অতিষ্ঠ করে তুলছে।”

    ধর্মের নামে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানো ব্যক্তিদের ‘উন্মাদ’ আচরণ ইসলামের বদনাম করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এর বিরুদ্ধে বাংলাদেশের যুবসমাজসহ সবাইকে সোচ্চার হতেও তিনি আহ্বান জানান।
    http://bangla.bdnews24.com/bangladesh/article1062693.bdnews

  2. এবার পোপ।

    আসন্ন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী ডোনাল্ড ট্রাম্পের ধর্ম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পোপ ফ্রান্সিস। ট্রাম্প সম্পর্কে পোপ বলেন, ‘যে ব্যক্তি সেতু নির্মাণের কথা না ভেবে কেবল দেয়াল নির্মাণের কথা ভাবেন, তিনি খ্রিষ্টান নন।’
    http://bangla.samakal.net/2016/02/19/194168

  3. বর্ষবরণ উৎসবের বিরোধিতাকারীদের সমালোচনায় প্রধানমন্ত্রী

    পহেলা বৈশাখ উদযাপনের বিরোধিতাকারীদের কঠোর সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    তারা আদৌ কোনো ধর্ম পালন করেন কি না- তা নিয়েও তিনি সংশয় প্রকাশ করেছেন।

    “আমাদের দেশে তো বহু পার্বণ আছে। আমরা ঈদ করি, সাথে সাথে আমাদের পহেলা বৈশাখ- এটাও আমরা উদযাপন করি। এখানে ধর্মীয় কোনো বাধা দেওয়ার কিছু নেই।

    “যারা নিষেধ করে, তারা কেন করে তা করে আমি জানি না। তারা কোন ধর্ম পালন করে সেটা নিয়েও সন্দেহ।”

    পাশাপাশি ধর্মের প্রতি ‘আঘাতকারীদের’ সতর্ক করে দিয়ে সহনশীলতার সঙ্গে সংস্কৃতি ও ধর্ম পালনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

    ১৪২৩ বঙ্গাব্দের প্রথম দিন বৃহস্পতিবার গণভবনে দলীয় নেতাকর্মীরা প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানাতে গেলে সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

    পহেলা বৈশাখ উদযাপনের বিরোধীতাকারীদের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এটাকে অনেকেই অনেক রকম মন্তব্য করার চেষ্টা করে। কেউ বলে ফেলে যে এটা হিন্দুয়ানি। আমরা মুসলমান হলেও বাংলাদেশের বাস করি। আমরা তো বাঙালি। কারণ বাঙালি হিসেবে যুদ্ধ করে আমরা দেশ স্বাধীন করেছি। আমরা বাঙালি হলে যে মুসলমান হতে পারবো না এ রকম তো কোনো কথা নেই। ধর্মে কোথায় লেখা আছে?”

    শেখ হাসিনা বলেন, “আজকে পৃথিবীতে যেসব দেশে মুসলমান আছে সেই সব দেশের নামেই তো সেই জাতির নাম। আরব দেশের যারা তাদের অ্যারাবিয়ান বলেই তো সবাই ডাকে। প্যালেস্টাইনের যারা প্যালেস্টাইনি বলেই ডাকা হয়। প্রত্যেকেরই তো পরিচয় একটা একটা দেশ, ভৌগলিক সীমারেখায় সেই পরিচয় দেওয়া হয়।

    ‘তবে কি তাদের মুসলমানিত্ব চলে যাচ্ছে?’-এ প্রশ্ন তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “তাদের মুসলমানিত্বতো চলে যাচ্ছে না।”
    বাংলাদেশে জাতিগত সাংস্কৃতিক উৎসব পালনের বিরোধিতাকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, “আমাদের খুব দুর্ভাগ্য যে, আমাদের একেক দল একেক রকম করে কথা বলতে শুর করে।

    “আমাদের এই দেশে যুগ যুগ ধরে আমাদের যে সংস্কৃতি, আমাদের যে রীতি-নীতি, সেগুলো আমরা পালন করি। যার যার ধর্মীয় অনুশাসন অনুযায়ী ধর্ম পালন করে। একটা সহনশীলতা নিয়ে আমরা বসবাস করব, যেন আমাদের দেশে শান্তি বজায় থাকে। সবচেয়ে বড় কথা শান্তি। কারণ শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ছাড়া কখনো উন্নতি হয় না।”

    তিনি বলেন, দেশে শান্তি আছে বলেই প্রবৃদ্ধি বেড়েছে, মাথাপিছু আয় বেড়েছে এবং এই পহেলা বৈশাখ একেবারে গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত নববর্ষ উদযাপিত হচ্ছে।

    বাংলাদেশে এবারই প্রথম সরকারি চাকুরেদের জন্য বৈশাখী উৎসব ভাতা চালু হয়েছে। অন্যদিকে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে উন্মুক্ত স্থানে বিকাল ৫টার মধ্যে পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান শেষ করতে বলা হয়েছে।

    অনুষ্ঠানে কড়াকড়ির জন্য সরকারকে সাধুবাদ জানিয়ে বর্ষবরণের অনুষ্ঠান পুরোপুরি বন্ধের দাবি জানিয়েছে আওয়ামী লীগ সমর্থক ওলামা লীগ। আর বৈশাখী উৎসব ভাতা বাদ দিয়ে ঈদ-ই মিলাদুন্নবিতে উৎসব ভাতা দেওয়ার দাবি জানিয়েছে তারা।

    ইসলাম ধর্মে সহনশীলতার শিক্ষার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, “আমাদের ধর্ম আমরা সবাই পালন করি। আর ইসলাম ধর্মেই নির্দেশনা আছে যে, যার যার ধর্ম সে সে পালন করবে। এখানে কারও ধর্মের ওপর আঘাত দেওয়ার কথাতো বলা হয়নি। নবী করিম (স.) তো বলেই গেছেন যে, ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করো না।

    “আর এই যে বাড়াবাড়ি করতে গিয়ে নানা ধরনের কথা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করা, থ্রেট করা, বোমা মেরে মানুষ হত্যা করা বা মানুষের জীবনের ওপর হুমকি দেওয়া- এটা ধর্মের কোথায় বলা আছে? যারা এ ধরনের হুমকি দেয় তারাই তো আমাদের ধর্মকে অবমাননা করে, ধর্মের বদনাম করে।”

    বিকাল ৫টার মধ্যে উন্মুক্ত স্থানে পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান শেষ করার নির্দেশনার সমালেচনা যারা করছেন, তাদেরও জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী।

    “আরেকটা গ্রুপ আছে। আমরা মানুষের নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য সব সময় সচেতন। একটা নিরাপত্তা বলয় তৈরি করার জন্য কী কী করণীয় আমরা তার কতকগুলো অনুশাসন দেই। এ নির্দেশনা দেওয়াতে অনেকে দেখলাম ক্ষোভ প্রকাশ করলেন। যিনি ক্ষোভ প্রকাশ করলেন, তাকে আমি বলতে চাই, যদি কোনো অঘটন ঘটে, তার দায় কী তিনি নেবেন? তাকেই নিতে হবে। এটা মাথায় রাখতে হবে।”

    ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে জঙ্গি-সন্ত্রাসবাদীদের হামলার ঘটনা তুলে ধরে তিনি নির্দেশনা মেনে শান্তিপূর্ণভাবে উৎসব উদযাপন করতে সবার প্রতি আহ্বান জানান।

    ধর্মীয় প্রসঙ্গ নিয়ে লেখালেখির ক্ষেত্রে সতর্ক করে সরকারপ্রধান বলেন, “আরেকটি বিষয় বলব, কারও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে লেখা কখনো গ্রহণযোগ্য না। এখন একটা ফ্যাশন দাঁড়িয়ে গেছে যে, ধর্মের বিরুদ্ধে কিছু লিখলেই তা হয়ে গেল মুক্তচিন্তা। আমি এটাকে মুক্তচিন্তা দেখি না। আমি এটাকে দেখি নোংরামি। এত নোংরা নোংরা লেখা কেন লিখবে?
    “আমি আমার ধর্ম মানি, আমি যাকে নবী মানি তার সম্পর্কে নোংরা কথা যদি কেউ লেখে, সেটা কখনো আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য না। ঠিক তেমনি অন্য ধর্মেরও যারা, তার সম্পর্কেও কেউ কিছু যদি লেখে, তাহলে এটা কখনো গ্রহণযোগ্য হবে না।

    ধর্ম বা অন্য ধর্মের অবমাননা করে লেখালেখিকে ‘নোংরা ও বিকৃত মনের পরিচায়ক’ আখ্যায়িত করেন শেখ হাসিনা।

    “একজন মুসলমান হিসেবে আমি প্রতিনিয়ত ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলি। সেটা নিয়ে যদি কেউ লেখে, তাহলে আমার নিজের কষ্ট হয়। আর এই লেখার জন্য কোনো অঘটন ঘটলে সেটা সরকারের ওপর আসবে কেন?”

    সবাইকে ‘সংযম ও শালীনতা’ বজায় রেখে ‘অসভ্যতা’ পরিহার করার আহ্বান জানান তিনি।

    ধর্মের নামে যারা মানুষ খুন করে, তাদের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “মানুষ খুন করার মধ্যে সমস্যার সমাধান নাই। একজন লিখল, আর একজন খুন করে প্রতিশোধ নেবে এটাও তো ইসলাম ধর্ম বলেনি।

    “বিচার তো আল্লাহ করবে। আল্লাহই তো বলে দিয়েছেন, উনিই শেষ বিচার করবেন। যাদের আল্লাহর ওপর ভরসা নেই তারাই এই খুন-খারাবি করতে চায়। কারণ তারা আসলে আল্লাহ রসুলও মানে না, তারা নিজেরাই আল্লাহর কাজ করতে চেষ্টা করে। এটা তো শিরক।” ‍

    সবাইকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নতুন বছরে বাংলাদেশের আরও অগ্রগতি প্রত্যাশা করেন প্রধানমন্ত্রী।

    অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সমাগতদের মিষ্টি, ফলসহ বিভিন্ন খাবারে আপ্যায়িত করা হয়।

    http://bangla.bdnews24.com/politics/article1136293.bdnews

  4. শেখ হাসিনা বলেছেন, কারো ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে লেখা কখনো গ্রহণযোগ্য না।

    এটা পৃথিবীর অন্যতম বাজে কথা, এজন্যই এনিয়ে আমি কথনো কিছু লিখিনি, পৃথিবীতে এমন কোনো ধর্ম নেই যেধর্ম অন্যের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত না দিয়ে আবির্ভূত হয়েছে বা প্রচলিত হয়েছে, কাজেই ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অজুহাত দিয়ে কড়া কড়া কথা বলা আস্তিক নাস্তিক সব ধর্মব্যবসায়ীদের কাছে – একে তো নাচুনে বুড়া/বুড়ি তার উপরে ঢাকের বাড়ির মতো – এই মোক্ষম বার্তা পৌঁছে দেয় যে তোমার আঘাত আরো শাণিত করো।

    শেখ হাসিনা বলেছেন, এটাকে অনেকেই অনেক রকম মন্তব্য করার চেষ্টা করে। কেউ বলে ফেলে যে এটা হিন্দুয়ানি। আমরা মুসলমান হলেও বাংলাদেশের বাস করি। আমরা তো বাঙালি। কারণ বাঙালি হিসেবে যুদ্ধ করে আমরা দেশ স্বাধীন করেছি। আমরা বাঙালি হলে যে মুসলমান হতে পারবো না এ রকম তো কোনো কথা নেই। ধর্মে কোথায় লেখা আছে? আজকে পৃথিবীতে যেসব দেশে মুসলমান আছে সেই সব দেশের নামেই তো সেই জাতির নাম। আরব দেশের যারা তাদের অ্যারাবিয়ান বলেই তো সবাই ডাকে। প্যালেস্টাইনের যারা প্যালেস্টাইনি বলেই ডাকা হয়। প্রত্যেকেরই তো পরিচয় একটা একটা দেশ, ভৌগলিক সীমারেখায় সেই পরিচয় দেওয়া হয়। তবে কি তাদের মুসলমানিত্ব চলে যাচ্ছে? তাদের মুসলমানিত্বতো চলে যাচ্ছে না।

    আমার আশেপাশে কাউকে শেখ হাসিনার একথাগুলোর প্রশংসা করতে শুনলাম না।

  5. ===
    Its work was recently magnified by the Paris terror attacks, which Indonesia’s Vice President, Jusuf Kalla, who serves on the NU Advisory Board, condemned at a three-day conference last week in Malang, Indonesia. The conference was held by the International Conference of Islamic Scholars, another Indonesian anti-radicalism project that its Foreign Ministry started in 2002, in wake of the Sept. 11 attacks. Kalla said, “There is nothing religious about such attacks because Islam never justifies them.”
    http://nirmanblog.com/masudkarim/7728#comment-56132

    ===

  6. ধর্মের নামে জঙ্গিবাদ ও হত্যা হারাম

    ইসলামে জঙ্গিবাদ নিষিদ্ধ। ধর্মের নামে কাউকে হত্যা বা আত্মঘাতী হওয়া হারাম। পবিত্র কোরআন ও হাদিসের আলোকে দেশের শীর্ষস্থানীয় ধর্মীয় নেতারা এ ফতোয়া দিয়েছেন। এতে এক লাখ মুফতি, আলেম, ওলামা, ইমাম স্বাক্ষর করে সমর্থন জানিয়েছেন। শীর্ষস্থানীয় মাদ্রাসাগুলোর ফতোয়া বিভাগও একই অভিমত জানিয়েছে। পৃথিবীর শীর্ষস্থানীয় দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দারুল উলুম দেওবন্দ ফতোয়াটিকে
    সঠিক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। আজ শনিবার সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এর প্রকাশ করা হবে।
    বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার উদ্যোগে এক লাখ আলেম-ওলামার স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয়। দস্তখত সংগ্রহ কমিটির আহ্বায়ক শোলাকিয়ার ইমাম ফরীদ উদ্দীন মাসউদ জানান, ধর্মের নামে তরুণ শিক্ষার্থীদের দলে ভেড়াচ্ছে জঙ্গিরা। আমাদের উদ্দেশ্য এ তরুণদের সুপথে আনা। তিনি বলেন, রাসূল (সা.) স্বয়ং সন্ত্রাসকে নিষিদ্ধ করেছেন। তার পরও যারা এমন কাজ করছে তাদের জানাতে চাই, ইসলাম কোনো ধরনের হত্যাকাণ্ডকে সমর্থন করে না। ইসলামে সন্ত্রাস হারাম। বিপথগামীদের কারণে যারা মুসলমানদের সন্ত্রাসী, জঙ্গিবাদী মনে করেন তাদেরও জানাতে চাই, ইসলামে সন্ত্রাসের স্থান নেই।
    ফতোয়াটির শুরুতেই সূরা মায়েদা (আয়াত ৩২), সূরা আরাফ (আয়াত ৭৭), সূরা কাসাস (আয়াত ৮৫) ব্যাখ্যা করে বলা হয়েছে, নিরপরাধ কাউকে হত্যা মানে গোটা মানবজাতিকে হত্যার মতো গর্হিত অপরাধ। সন্ত্রাস ও দুর্যোগ সৃষ্টি ইসলামে নিষিদ্ধ। আল্লাহ সন্ত্রাসীদের পছন্দ করেন না।
    সাম্প্রতিক সময়ে দেশজুড়ে একের পর এক গুপ্তহত্যার ঘটনা ঘটছে। লেখক, ব্লগার, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অনুসারীরা হত্যার শিকার হচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, ইসলাম নামধারী কয়েকটি জঙ্গি সংগঠন এসব হত্যায় জড়িত। নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি), আনসারুল্লাহ বাংলা টিমসহ (এবিটি) কয়েকটি সংগঠন গুপ্তহত্যায় জড়িত বলে জানিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের প্রধান কেন্দ্র হাটহাজারীর দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসার ফতোয়া বিভাগও অভিমত দিয়েছে, জঙ্গিবাদ হারাম। একই অভিমত দিয়েছে, বসুন্ধরা ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার। চরমোনাইর পীরের মাদ্রাসাও বলেছে, ইসলামের নামে হত্যা হারাম।
    ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী, কোরআন-হাদিসের আলোকে মুফতি ও ধর্মবেত্তাদের দেওয়া মতামত (ফতোয়া) সবাইকে মানতেই হবে। ফতোয়ার ভূমিকায় বলা হয়েছে, ‘ধর্মের নামে যারা সন্ত্রাস করছে, তারা বেহেশত লাভের প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে তা করছে। কিন্তু তা বেহেশতের নয়, জাহান্নামের পথ।’ ফতোয়ায় কোরআন ও হাদিসের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, জিহাদ ও সন্ত্রাস এক নয়, বরং ইসলামে বলা হয়েছে, যুদ্ধাবস্থা হলে মীমাংসা করে দাও। ইসলাম যুদ্ধ সমর্থন করে, তবে তা অনেক শর্তযুক্ত। সূরা হজ (আয়াত ৪) উদৃব্দত করে ফতোয়ায় বলা হয়েছে, অন্য ধর্মের উপাসনালয়ে হামলা করা হারাম। আল্লাহতায়ালা নিজেই তা নিষিদ্ধ করেছেন।
    আলেম-ওলামাদের কাছে ১০টি প্রশ্ন রেখেছিল জমিয়তুল উলামা। জঙ্গিবাদীরা পবিত্র কোরআনের সূরা তওবার ৫ নম্বর আয়াতকে ব্যবহার করে হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে। এ আয়াতের মাধ্যমে ইসলাম অস্বীকারকারীকে হত্যা করা বৈধতা পেতে পারে কি-না? এ প্রশ্ন রাখা হয়েছিল এক লাখ মুফতির কাছে। তারা সহিহ মুসলিম ২ :২৩৬ হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেছেন, শুধু মানুষ নয়, কোনো প্রাণীকে হত্যার বৈধতা ইসলাম দেয় না। সূরা বাকারার ২০৪ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, সন্ত্রাস সৃষ্টি করা মুনাফেকের কাজ। মুসনাদে আহমাদের ৭০৭৬ নম্বর হাদিস উদৃব্দত করে বলা হয়েছে, মুসলিম হলো সেই ব্যক্তি যার কাছে সব মানুষ নিরাপদ।
    ইসলাম কায়েমে বর্বর ও হিংস্র পথ ব্যবহার করা যাবে না বলে মতামত দিয়েছেন আলেমরা। পবিত্র কোরআনের মাধ্যমে স্বয়ং হজরত মুহাম্মদকে (সা.) আল্লাহতায়ালা এ নির্দেশ দিয়েছেন। ইসলাম প্রচার করতে বলা হয়েছে। কাউকে তা গ্রহণে বাধ্য করা যাবে না। সূরা ইয়াসিনে বলা হয়েছে, ‘স্পষ্টভাবে প্রচার করাই আমাদের দায়িত্ব’ (আয়াত ১৭)। সূরা বাকারায় বলা হয়েছে, ‘দ্বীনের ব্যাপারে জবরদস্তি নেই। (আয়াত ২৫৬)’

    http://bangla.samakal.net/2016/06/18/219286

    https://www.facebook.com/plugins/post.php?href=https%3A%2F%2Fwww.facebook.com%2Fmasud.karim.52%2Fposts%2F10154275602617937&width=500

Trackbacks & Pingbacks

  1. হাসিনা আমির মোদি | মাসুদ করিম

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: