Skip to content

কালরাত্রির উর্দু নাম

January 21, 2015

আমার বদ্ধমূল ধারণা পাকিস্তান আর্মির অপারেশন সার্চলাইটের একটা উর্দু নাম ছিলই, সেটা পাক আর্মিরা জানত শুধু, বহুবার বহুজনের কাছ থেকে জানতে চেয়েছি, ২৫শে মার্চ ১৯৭১ নিয়ে কিছু পড়তে গেলেই অত্যন্ত সতর্কতার সাথে খুঁজে দেখেছি আমার জিজ্ঞাসার উত্তর মেলে কিনা, বছর বছর চলে গেল – কোনোভাবেই এব্যাপারে কিছু জানতে পারলাম না – কিন্তু আমি এখন থেকে ২৫শে মার্চ ১৯৭১ এর পাক আর্মির অপারেশনকে আর সার্চলাইট হিসেবে অভিহিত করব না – আমি এখন থেকে ২৫শে মার্চ ১৯৭১ এর পাক আর্মির অপারেশনকে হামেঁ মিট্টি চাহিয়ে এই উর্দু নামেই ডেকে যাব – যত দিন পাক আর্মির সেদিনের অপারেশনের উর্দু নামটা জানা না যায় তত দিন আমার কাছে এটাই থাকুক সেই কালরাত্রির আগ্রাসনের উর্দু নাম।

সত্যিকার অর্থে তারা তাই চেয়েছিল, তারা এই মাটি চেয়েছিল, এই মাটিতে পবিত্র পাকিস্তানিদের চেয়েছিল, আমাদেরকে মেরে নদীর বুকে ফেলে পলির সাথে বঙ্গোপসাগরে বিলীন করে দিতে চেয়েছিল, আর তারপর এই মাটি পবিত্র পাকিস্তানের পবিত্র পাকিস্তানি দিয়ে ভোগ করতে চেয়েছিল – সার্চলাইট বাইরে বাইরে ভেতরে ভেতরে ছিল হামেঁ মিট্টি চাহিয়ে।

কমিউনিটি ব্লগে : কালরাত্রির উর্দু নাম

Advertisements
One Comment
  1. ‘গণহত্যা দিবস’ কেন?

    ইংরেজি ‘জেনোসাইড’ শব্দটি ‘গণহত্যা’ হিসেবে বাংলায় স্বীকৃত, যার অর্থ বিশেষ কোনো জনগোষ্ঠী বা ধর্ম, বর্ণ ও বিশ্বাসের মানুষের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত পন্থায় পরিচালিত ব্যাপক হত্যাকাণ্ড, আক্রমণ ও পীড়ন এবং যা সেই জনগোষ্ঠীকে আংশিক অথবা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করার লক্ষ্যে পরিচালিত হয়। জাতিসংঘের ১৯৪৯ সালের ‘জেনোসাইড কনভেনশন’ও এই সংজ্ঞার স্বীকৃত আছে। সে কারণে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মাটিতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের স্থানীয় দোসরদের হাতে যে নির্বিচার হত্যাযজ্ঞ ঘটে, তা সব অর্থেই গণহত্যা বা জেনোসাইড।

    বাংলাদেশের মাটিতে যে হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছিল, তা ছিল বিংশ শতাব্দীর নৃসংশতম গণহত্যা। ১৯৭১ সালের মার্চ মাসের ২৫ তারিখ থেকে ৮ মাস ২ সপ্তাহ ৩ দিনের এই গণহত্যার স্বরূপ ছিল ভয়ঙ্কর। পরিকল্পিতভাবে বাঙালিকে খুন করা হয়েছে, গণহারে নারীদের উপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে, ঘরবাড়িতে আগুন দেওয়াসহ অপহরণ, গুম ও বর্বর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। এসব হামলার সহযোগী ছিল বাঙালি ও অবাঙালি সমন্বয়ে গঠিত রাজাকার, আল বদর, আল শামস ও শান্তি কমিটির সদস্যরা।

    পাকিস্তান বাহিনীর প্রথম বাঙালিনিধন অভিযানটি পরিচালিত হয় ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে। এই অভিযানের মধ্য দিয়ে তারা নির্বাচনে বিজয়ী দল আওয়ামী লীগকেই কেবল উৎখাতের পথ বেছে নেয়নি, একই সঙ্গে বাঙালি সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ, ইপিআর এবং ছাত্রজনতাকে নিধন করার পরিকল্পনা করে। নিরস্ত্র জনগোষ্ঠীর উপর রাষ্ট্রীয় বাহিনীর এই সর্বাত্মক সামরিক অভিযানের ফলে জীবন বাঁচাতে লাখ লাখ মানুষ ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়। ফলে ভারতের মাটিতে প্রায় এক কোটি মানুষের দেশান্তরী হওয়ার মর্মন্তুদ অধ্যায় ঘটে।

    পাকিস্তান রাষ্ট্রটি ইতিহাস থেকে কখনো শিক্ষাগ্রহণ করেনি, বরং তার পরিচিতি ইতিহাসের ঘাতক হিসেবে। ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত প্রায় প্রতিটি ঐতিহাসিক সত্যকে তারা হয় বিকৃত, নয় আড়াল করেছে। স্কুলের পাঠ্যপুস্তকে তারা মনগড়া ইতিহাস যোগ করেছে, নতুন প্রজন্মকে ইতিহাসশূন্য করেছে। কাজেই বাংলাদেশের মাটিতে তার সেনাবাহিনীর বর্বরতা অস্বীকার করার ব্যাপারটি নতুন কিছু নয়। এতে ঐতিহাসিক সত্যের কিছু আসে-যায় না। কারণ সেই বেদনাবিধূর অধ্যায়ের স্মৃতিচারণ করার কোটি মানুষ এখনও আছে, আছে হাজারো স্মৃতিচিহ্ন, গণকবর, আছে দেশি-বিদেশি প্রত্যক্ষদর্শী, সমীক্ষা ও গবেষণা, যা সত্যকে তুলে ধরবে।

    মার্কিন সিনেটর এডওয়ার্ড কেনেডি ভারতের শরণার্থী শিবিরগুলো পরিদর্শন করেন ১৯৭১ সালে। তিনি পাকিস্তানি সৈন্যদের বিরুদ্ধে সরাসরি গণহত্যা চালানোর অভিযোগ করেন। ‘গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস’এ বাংলাদেশের হত্যাযজ্ঞকে বিশ শতকের পাঁচটি ভয়ঙ্কর গণহত্যার অন্যতম বলে উল্লেখ করা হয়। ২০০২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘নিরাপত্তা বিষয়ক আর্কাইভ’ তাদের অবমুক্তকৃত দলিল প্রকাশ করে। এতে বাংলাদেশের নারকীয় হত্যাডজ্ঞকে ‘selective genocide’ বা ‘genocide’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

    ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন কূটনৈতিকগণ পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ব্যাপক গণহত্যার বর্ণনা দিয়ে ওয়াশিংটনে কূটনৈতিক বার্তা পাঠান। হাওয়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও গবেষক R.J. Rummel লেখেন:

    These “willing executioners” were fueled by an abiding anti-Bengali racism, especially against the Hindu minority. Bengalis were often compared with monkeys and chicken…And the soldiers were free to kill at will.

    ‘টাইম’ ম্যাগাজিনের ড্যান কগিন, যিনি মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিক, একজন পাকিস্তানি ক্যাপ্টেনকে উদ্ধৃত করেন এভাবে:

    “We can kill anyone for anything. We are accountable to no one.”

    বিশ্বখ্যাত এই পত্রিকাটির একটি সম্পাদকীয় মন্তব্য ছিল:

    “It is the most incredible, calculated thing since the days of the Nazis in Poland.”

    ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’এর ম্যালকম ডাবিস্নও ব্রাউনি তাঁর ‘Horrors of East Pakistan Turning Hope into Despair’ রিপোর্টে লেখেন:

    One tale that is widely believed and seems to come from many different sources is that 563 women picked up by the army in March and April and held in military brothels are not being released because they are pregnant beyond the point at which abortions are possible…

    ১৯৭২ সালে International Commission of Jurists (ICJ) মন্তব্য করে:

    Three specific sections of the Bengali people were targeted in killings committed by the Pakistani army and their collaborators: members of the Awami League, students, and East Pakistani citizens of the Hindu religion.

    রিপোর্টের শেষাংশে মন্তব্য করা হয়:

    There is a strong prima facie case that particular acts of genocide were committed, especially towards the end of the war, when Bengalis were targeted indiscriminately.

    ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে জেনারেল নিয়াজীসহ ১৯৫ জন পাকিস্তানি সেনা অফিসারকে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করে বিচার করার ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ। কিন্তু ১৯৭৪ সালের ত্রিপক্ষীয় চুক্তির পর ৯৩ হাজার পাকিস্তানি যুদ্ধবন্দীসহ তারা দেশে ফিরে যায়। এর প্রধান কারণ চার লাখ বাঙালি পাকিস্তানে আটকে ছিল এবং জুলফিকার আলী ভুট্টো তাদের বিচার করার ঘোষণা দিয়েছিলন। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ২০০ জন বাঙালিকে কারারুদ্ধও করেছিল পাকিস্তান।

    গণহত্যার স্বীকৃতি স্বরূপ ত্রিপক্ষীয় চুক্তিতে পাকিস্তান “deeply regretted any crimes that may have been committed” কথাগুলো উল্লেখ করে।

    জুলফিকার আলী ভুট্টো ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ সফরে এসে ১৯৭১ সালের ঘটনার জন্য ‘excesses’ জন্য ‘দুঃখ’ প্রকাশ করেন। একমাত্র ২০১৫ সালে নওয়াজ শরিফের সরকার আগের অবস্থান থেকে সরে আসে, তারা ইতিহাস পুরোপুরি অস্বীকার করে!

    অথচ ১৯৭৩ সালের মার্চ মাসে পাকিস্তান সরকার অভিযুক্ত সেনাদের বিচারে যে বিবৃতিটি প্রচার করে, তা এ রকম:

    “Pakistan expresses its readiness to constitute a judicial tribunal of such character and composition as will inspire international confidence to try the persons charged with offenses.”

    কিন্তু সে কাজটি পাকিস্তান এখন পর্যন্ত করেনি। শুধু তাই নয়, নতুন করে গণহত্যা অস্বীকারের অপপ্রচারে নেমেছে। বাংলাদেশে তাদের বাহিনীর পরাজয়ের কারণ নির্ণয় করতে পাকিস্তান ১৯৭২ সালে ‘হামাদুর রহমান কমিশন’ গঠন করে। কমিশনের রিপোর্ট তারা ২৮ বছর ধরে চেপে রাখে। ২০০০ সালে গণমাধ্যমে তা প্রচারিত হলে দেখা যায়, কমিশনে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে সিনিয়র পাকিস্তানি সেনাকর্মকর্তারা প্রায় সবাই ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ ও নারী নির্যাতনের কথা স্বীকার করেছে। কমিশন সুপারিশ করে:

    The government of Pakistan should set a high-powered Court of Inquiry to investigate these allegations and to hold trials of those who indulged in these atrocities, brought a bad name to the Pakistan Army and alienated the sympathies of the local population by their acts of wanton cruelty and immorality against our own people.

    কিন্তু এসবের কিছুই করেনি পাকিস্তান। আমরা আরও জানি যে পাকিস্তানের সিভিল সমাজ গণহত্যা ও নারী নির্যাতনের জন্য বাংলাদেশের মানুষের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে বছরের পর বছর।

    শুধু দেশীয় নয়, আন্তর্জাতিক মহলের মতেও ১৯৭১ সালে ‘থ্রি মিলিয়ন’ বা ত্রিশ লাখ মানুষ নিহত হয়েছে। এই সংখ্যার সমর্থন আছে National Geographic magazine, Encyclopedia Americana ও Compton’s Encyclopedia তে। এসব রিপোর্টের মতে, বাংলাদেশের মাটিতে পাকিস্তান বাহিনীর নিষ্ঠুরতা ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পোলান্ডে নাজি বাহিনীর বর্বরতার চেয়েও ভয়াবহ। এই গণহত্যা সম্পর্কে অন্যতম প্রধান পাকিস্তানি জেনারেল রাও ফরমান আলী তার ডায়েরিতে লেখেন, তিনি বাংলার সবুজ মাঠকে রক্তবর্ণ করে দেবেন (paint the green of East Pakistan red) এবং দিয়েছিলেনও।

    ১৩ জুন ১৯৭১ পাকিস্তানি সাংবাদিক অ্যান্থনি মাসকারেনহাস ঢাকা-কুমিল্লা অঞ্চল ঘুরে পালিয়ে গিয়ে লন্ডনের ‘সানডে টাইমস’ পত্রিকায় একটি প্রত্যক্ষদর্শী প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। এই রিপোর্টটি বিশ্ববিবেক নাড়িয়ে দেয়–

    “We are determined to cleanse East Pakistan once for all of the threat of secession, even if it means the killing of two million people and meeting the province as a colony for 30 years’, I was repeatedly told by senior military and civil officers in Dhaka and Comilla.”

    এই গণহত্যার বিরুদ্ধে বিশ্ববাসী সরব হয়ে ওঠে। গণহত্যা বন্ধে জর্জ হ্যারিসন ও পন্ডিত রবি শংকর ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ আয়োজন করেন। প্যারিস ও লন্ডনে সরব হন মানবতাবাদীরা। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন দার্শনিক অ্যাঁদরে মালরো বাংলাদেশের পক্ষে ‘আন্তর্জাতিক ব্রিগেড’ গঠনের ঘোষণা দেন।

    ২.

    ইতিহাসের ভয়ঙ্কর এক হত্যাযজ্ঞের ট্র্যাজেডি ধারণ করে ২৫ মার্চ বাংলাদেশের মানুষের কাছে ‘কালরাত্রি’। অনেক বছর ধরেই দিনটিকে ‘গণহত্যা দিবস’ ঘোষণার দাবি জানিয়ে আসছেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী মানবতাবাদী মানুষ। কারণ এ দিন থেকেই সূত্রপাত ঘটে প্রায় নয় মাসের নিষ্ঠুরতা, যাতে ৩০ লাখ মানুষ শহীদ হন।

    রবার্ট পাইন তাঁর ‘Massacre, The Tragedy of Bangladesh’ বইতে ইয়াহিয়া খানের উদ্ধৃতি দেন:

    “Kill three million of them and the rest will eat out of our hands.”

    ১৯৮১ সালে জাতিসংঘ সংস্থার এক রিপোর্টে বলা হয়:

    “Among the genocides of human history, the highest number of people killed in lower span of time is in Bangladesh in 1971. An average of 6000 (six thousand) to 12 000 (twelve thousand) people were killed every single day…This is the highest daily average in the history of genocide’s.”

    মাত্র নয় মাসে এবং যে দ্রুততায় মানুষ মারা হয়েছে বাংলাদেশে, তা বিশ্ব ইতিহাসে বিরল। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পরিসখ্যানে দেখা গেছে, দৈনিক গড়ে ৬,০০০ মানুষ খুন করা হয়েছে মাত্র ২৬০ দিনে। কমোডিয়ার এই হার ছিল ১,২০০। একমাত্র চুকনগরেই ২০ মে ১৯৭১ সালে একদিনে ৮ থেকে ১০ হাজার মানুষ হত্যা করা হয়েছে।

    ২৫ মার্চের অভিযানটি শুরুর আগে প্রতিটি বিদেশি সাংবাদিককে ঢাকা থেকে বের করে দেওয়া হয়। স্থানীয় প্রচারমাধ্যমের ওপর কঠোর সেন্সরশিপ আরোপ করা হয়। এরপরও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কয়েকজন বিদেশি সাংবাদিক লুকিয়ে থাকেন। তাদেরই একজন সাইমন ড্রিং। তিনি ৩১ মার্চ লন্ডনের ‘ডেইলি টেলিগ্রাফ’এ তাঁর প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। দীর্ঘ প্রতিবেদনের শুরুটা এ রকম:

    ২৫ মার্চ মধ্যরাতের পর ঢাকা মহানগরী মুহুর্মুহু তোপধ্বনিতে প্রকম্পিত হতে থাকে। সর্বত্র বোমা-বারুদের তীব্র গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। টিক্কা খান বর্বর সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে নির্মমভাবে গণবিদ্রোহ দমনে সচেষ্ট হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজারবাগ পুলিশ হেড কোয়ার্টার, ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলসের প্রধান কার্যালয় পিলখানা সেনা-অভিযানে বিধ্বস্ত হয়। নিরস্ত্র মানুষের ওপর সেনাবাহিনী নির্বিচারে ভারী আর.আর.গান, স্বয়ংক্রিয় রাইফেল ব্যবহার করে। ইকবাল হলকে তারা প্রধান আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে। সেখানে প্রথম ধাক্কাতেই ২০০ ছাত্র নিহত হয়।

    একদিকে হলগুলোর দিকে উপর্যপুরি শেল নিক্ষেপ করা হতে থাকে, অন্যদিকে চলতে থাকে মেশিনগানের গুলি। দুদিন পর্যন্ত পোড়া ঘরগুলোর জানালা-দরজায় মৃতদেহ ঝুঁলে থাকতে দেখা যায়। পথে-ঘাটে মৃতদেহ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকে। জগন্নাথ হলেও বর্বরোচিত আক্রমণ চালানো হয়। কয়েক শত ছাত্র, যারা প্রায় সবােই হিন্দু ধর্মালম্বী, নিহত-আহত হয়। সৈন্যরা মৃতদেহগুলোকে গর্ত খুড়ে গণকবর দেয়। এরপর ট্যাংক চালিয়ে মাটি সমান করে।

    রিপোর্টটির একটি অংশ এ রকম:

    “আল্লাহ ও পাকিস্তানের ঐক্যের নামে ঢাকা আজ এক বিধ্বস্ত ও সন্ত্রস্ত নগরী।”

    ঢাকার মাটিতে একমাত্র ২৫ মার্চ রাতেই পাকিস্তান বাহিনীর হাতে এক লাখ মানুষ নিহত হয় বলে ‘Sydney Morning Herald’ বিবরণ দেয়। নয় মাসব্যাপী বর্বরতায় পাকিস্তান বাহিনী ও তাদের দোসররা তিন লক্ষাধিক নারীকে ধর্ষণ করে, ধ্বংস করে জনপদ।

    কাজেই ইতিহাস রক্ষাই শুধু নয়, পাকিস্তানি অপপ্রচারের বিরুদ্ধে নতুন প্রজন্মকে সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করাবার দায়বদ্ধতার প্রশ্নটিও জরুরি। সেনাবাহিনীর অপকর্ম ঢাকতে পাকিস্তান যা করে চলেছে, তা আরেক ঐতিহাসিক পাপ– এতে সত্যের নড়চড় হওয়ার সুযোগ নেই।

    আমার বিশ্বাস, ২৫ মার্চকে ‘গণহত্যা দিবস’ ঘোষণার মধ্য দিয়ে দিনটির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবি বেগবান হবে।

    http://opinion.bdnews24.com/bangla/archives/45918

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: