Skip to content

ইউনূসমিতি ৫

June 24, 2013

২৫ আগস্ট ২০১২, শনিবার

গ্রামীণ ব্যাংক আইন সংশোধন নিয়ে ব্যাংকটির প্রতিষ্ঠাতা ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ ইউনূসের বক্তব্যকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে শুক্রবার দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেছেন, “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ড. ইউনূস এ ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন। বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদও বলেছেন, তারা ক্ষমতায় গেলে আইনের এ সংশোধনী বাতিল করবেন। এ ধরনের বক্তব্য সম্পূর্ণই রাজনৈতিক বক্তব্য।”

গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগের বিধি পরিবর্তন করে সংশোধিত গ্রামীণ ব্যাংক আইন বুধবার অধ্যাদেশ আকারে জারি করে সরকার। বৃহস্পতিবার এটি প্রকাশ হওয়ার পর ইউনূস দিনটিকে ‘কালো দিবস’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

সরকার গত বছর গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে ইউনূসকে অপসারণের পর থেকে এই নোবেল বিজয়ীর সঙ্গে সরকারের টানাপড়েন চলেছে। আর এর মধ্যেই ইউনূসের পক্ষ নিয়েছে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি।

সংশোধিত অধ্যাদেশ জারির প্রতিক্রিয়ায় নোবেলজয়ী এই বাংলাদেশি এক বিবৃতিতে বলেন, “দিনটি জাতির ইতিহাসে কালো দিবস হিসেবে লেখা থাকবে। আমাদের সরকার নোবেলজয়ী প্রতিষ্ঠানটির স্বাতন্ত্র্য, অর্জন কেড়ে নিচ্ছে।”

ইউনূসের এ দাবিকে অপপ্রচার উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগের প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ করতে সামান্য সংশোধন আনা হয়েছে।

এই প্রসঙ্গে তিনি আরো জানান, এরশাদের শাসনামলে একটি অধ্যাদেশের বলে প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংক আইনে সামরিক সরকারের আমলে দুইবার সংশোধন আনা হয়েছিল।

ইউনূস বিবৃতিতে বলেন, “এই সংশোধনীর ফলে গ্রামীণ ব্যাংক সরকারের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাবে পরিচালিত হবে।”

তার এ বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় আইনমন্ত্রী বলেন, “এটি নিছক অপপ্রচার। কারণ এতে কারো ক্ষমতা বাড়ানো বা কমানো হয়নি।”

“সংশোধনীতে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগের জন্য বোর্ডের সঙ্গে পরামর্শ করে একটি সিলেকশন কমিটি গঠনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আগের আইনেও সিলেকশন কমিটি গঠনের বিষয়টি ছিল। এটি বোর্ডের ওপর অর্পিত ছিল। এখন তা চেয়ারম্যানের ওপর অর্পণ করা হয়েছে”, ব্যাখ্যা দেন তিনি।

“চেয়ারম্যান বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করেই বিশেষজ্ঞ ও দক্ষ ব্যক্তিদের নিয়ে এ সিলেকশন কমিটি গঠন করবেন। ওই কমিটি যোগ্যদের নিয়ে তিন সদস্যের একটি প্যানেল বাছাই করে বোর্ডের কাছে জমা দেবেন। পরিচালনা বোর্ড বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিয়ে আগের আইন অনুযায়ীই একজনকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগ করবেন”, যোগ করেন তিনি।

অধ্যাদেশ জারির বিষয়ে তিনি বলেন, “বর্তমানে সংসদের অধিবেশন নেই। তাই ব্যাংকটির জন্য ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে অধ্যাদেশের মাধ্যমে আইনটি সংশোধন করা হয়েছে। সংসদের পরবর্তী অধিবেশনেই আইনটি উপস্থাপন এবং অনুমোদন করা হবে।”

শফিক আহমেদ মনে করেন, আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত একটি প্রতিষ্ঠানের আইন সরকার সংশোধন করতেই পারে। এ নিয়ে অপপ্রচার চালানোর কিছু নেই।

বিবৃতিতে গ্রামীণ ব্যাংককে ‘গরিব মহিলাদের মালিকানার ব্যাংক’ হিসেবে ইউনূসের দাবি প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, “উনি যে এই দাবি করেছেন, উনি কি কখনো মালিকদের লভ্যাংশ (ডিভিডেন্ট) দিয়েছেন। ব্যবসা করলে মালিকরা লভ্যাংশ পাবেন, এটাই নিয়ম। কিন্তু তিনি তো কখনো মালিকদের লভ্যাংশ দেননি। বরং নিজেরা সুবিধা নিয়েছেন।”

“দেশে আইন আছে। আইনের অধীনেই এ ব্যাংকটি চলে। এখানে উনি যা করতে চাইবেন, তা তো হতে দেওয়া যায় না। উনি যা বলবেন বা করবেন, তাই আইন হিসেবে বিবেচিত হবে, এটাও তো হতে পারে না। তার ইচ্ছামতো একটি সরকারি সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান চলতে পারেন না”, যোগ করেন তিনি।

মুহাম্মদ ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে ৭০ বছর বয়স পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করে আইন ভঙ্গ করেছেন উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, “উনি নিজেই তো আইনের বরখেলাপ করেছেন। সরকার তো আইন অনুযায়ী সব পদক্ষেপ নিয়েছে। তিনি আদালতে গিয়ে মামলায় হেরে বিদায় নিয়েছেন। তার মুখে এ নিয়ে কথা বলা মানায় না।”

১৯৮৩ সালে একটি সামরিক অধ্যাদেশের মাধ্যমে গ্রামীণ ব্যাংকের সূচনা হওয়ার পর থেকেই এ প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করে আসা ইউনূসকে বয়সসীমা অতিক্রান্ত হওয়ার কারণ দেখিয়ে গত বছর অব্যাহতি দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে হেরে যান তিনি।

এরপর থেকে উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান গ্রামীণ ব্যাংকের এমডির দায়িত্ব সামলাচ্ছেন।

ইউনূস বলে আসছেন, সরকার মনোনীত চেয়ারম্যানের মাধ্যমে নিয়োগের মাধ্যমে গ্রামীণ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ এর সদস্যদের কাছ থেকে ‘কেড়ে’ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, সরকার গ্রামীণ ব্যাংকের মালিকানা পুরোপুরিই নিতে চায়। তা প্রতিরোধে দেশবাসীকে এগিয়ে আসারও আহ্বান জানান তিনি।

ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনের চেষ্টাকে ‘শান্তি স্থাপন’ বিবেচনা করে ২০০৬ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয় ইউনূস ও গ্রামীণ ব্যাংককে।

২০১০ এর ডিসেম্বরে নরওয়ের টেলিভিশনে প্রচারিত একটি প্রামাণ্যচিত্রে মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে গ্রামীণ ব্যাংককে দেওয়া বিদেশি অর্থ এক তহবিল থেকে অন্য তহবিলে স্থানান্তরের অভিযোগ ওঠে। এর পর দেশে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

এই পরিপ্রেক্ষিতে গ্রামীণ ব্যাংকের কর্মকা- পর্যালোচনায় একটি কমিটি গঠন করে সরকার। গ্রামীণ ব্যাংক ও সহযোগী সংস্থাগুলোর কার্যক্রমে নানা ‘অসঙ্গতির’ তথ্য উঠে আসে ওই কমিটির প্রতিবেদনে।

===============================

২৬ আগস্ট ২০১২, রবিবার

ইউনূস দিনটিকে ‘কালো দিবস’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

কালো দিনের বয়ানের শেষের দিকে ইউনূস বলেছেন

আমি আশাবাদী মানুষ। আমি হতাশ হতে চাই না। নিজের মনে আশার ক্ষীণ আলো জাগিয়ে রাখতে চাই। আমি আগের মতো আবারও দেশবাসীর কাছে আহ্বান জানাচ্ছি যে, তাঁরা যেন এর প্রতিকারের ব্যবস্থা করেন। আমি দেশের তরুণদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, তারা যেন একদিন গ্রামীণ ব্যাংআকের মালিকদেরকে এই দুঃস্বপ্ন থেকে মুক্ত করে নিয়ে আসে এবং গ্রামীণ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ তাদেরকে ফিরিয়ে দিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকে। গরিব মালিকদের পরিবারের তরুণেরাও যেন এই প্রতিজ্ঞা করে যে, তাদের মায়েদের সম্পদ তারা তাদের মায়েদেরকে ফেরত এনে দেবে। তাদের ব্যাংক তাদের কাছে যেন আবার পূর্ণ ক্ষমতায় ফিরে আসে। আশা করি ভবিষ্যতে একদিন আমাদের দেশে এমন সরকার আসবে, যাদের প্রথম কাজ হবে, একটি জাতীয় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে গরিব মহিলাদের এই ব্যাংকটিকে গরিব মহিলাদের হাতে তুলে দিয়ে এই ব্যাংকের গৌরবময় অগ্রযাত্রাকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করা। সেদিন দেশের সকল মানুষ স্বস্তি পাবে, গরিব মহিলাদের মঙ্গলকামী পৃথিবীর সকল মানুষ স্বস্তি পাবে।
আজ দুঃখের দিনে সে রকম একটি সুখের দিনের কথা চিন্তা করা ছাড়া মনকে সান্ত্বনা দেবার আর কিছু খুঁজে পাচ্ছি না।

গ্রামীণ ব্যাংকের ঋণ নেওয়া প্রতিটি মায়ের ছেলেমেয়েরা এই আহ্বানে ঝাঁপিয়ে পড়বে, শুধু বয়ান শুনে? আন্দোলন সংগঠন লাগবে না? কিছু ছাড়া এমনিতে হয়ে গেলে তো ভালো, কালোর বিরুদ্ধে হবে যাদুর জয়!

এমন সরকার যাদের প্রধান কাজ হবে একটি জাতীয় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে গরিব মহিলাদের ব্যাংক গরিব মহিলাদের কাছে ফিরিয়ে দেয়া। তো সেরকম কিছু করতে গেলে তো ইউনূসকে নিজেকেই সরকার প্রধান হতে হবে, গতবার যেসুযোগ ফখরুদ্দিনকে দিয়ে দিয়েছিলেন, সেরকম আরেকটা সুযোগের প্রত্যাশা করছেন ইউনূস! One more chance? খেলারাম খেলে যা, আমরা দেখি।

===================================

২৬ আগস্ট ২০১২, রবিবার

‘ব্যক্তিগত সম্পর্ক ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করছেন ইউনূস’
আইনি লড়াইয়ে হেরে গিয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার ব্যক্তিগত সম্পর্ককে ব্যবহার করে সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করছেন। এই অভিযোগ করেছেন দেশের ৫১ জন বিশিষ্ট নাগরিক।

শনিবার এক বিবৃতিতে তারা বলেছেন, ইউনূস ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে বৃহৎশক্তি ও দাতাগোষ্ঠীকে দিয়ে দেশের ওপর নানা চাপ প্রয়োগ করে চলেছেন।

বিদেশি শক্তিগুলোর এই চাপ প্রয়োগকে অবাঞ্ছিত উল্লেখ করে এই বিশিষ্টজনেরা বলেছেন, “এই চাপ বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের সামিল, যা স্বাধীন দেশের ক্ষেত্রে নাগরিকদের পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।“

গণমাধ্যমে দেওয়া শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাম্প্রতিক বিবৃতির বিষয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা। এদের মধ্যে রয়েছেন, শিক্ষক, গবেষক, সাংবাদিক, শিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব।

বিবৃতিতে তারা বলেছেন, “গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে বর্তমান সরকার ও ড. মুহাম্মদ ইউন‍ূসের মধ্যে একটি মতপার্থক্য রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সরকারি চাকরির বিধিমালা অনুযায়ী বয়সসীমা অতিক্রম করায় ড. ইউনূসকে গ্রামীণব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ায় তিনি মামলা দায়ের করেন এবং বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত সরকারের সিদ্ধান্তকে আইনানুগ বলে রায় দেন। এতে বিষয়টির একটি আইনি মীমাংসা সম্পন্ন হয়। অতি সম্প্রতি সরকার গ্রামীণব্যাংকের অধ্যাদেশে তৃতীয়বারের মতো যে সংশোধনী এনেছে তা নিয়ে যে কেউ ভিন্নমত পোষণ করতেই পারেন।“

“কিন্তু আমরা লক্ষ্য করছি যে, ড. ইউনুস ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে বৃহৎশক্তি ও দাতাগোষ্ঠীকে দিয়ে দেশের ওপর নানা চাপ প্রয়োগ করছেন।

আমরা জানি, বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জরুরি অবস্থার সময় যখন দুই নেত্রীকে গ্রেফতার করে ‘মাইনাস টু ফর্মুলা’ বাস্তবায়নের ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল, সে সময় ড. ইউনূস একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেছিলেন। বর্তমানে দেশে একটি নির্বাচিত সরকার বহাল থাকা অবস্থায় তিনি নতুন সরকার বলতে কী বোঝাতে চেয়েছেন তা স্পষ্ট করেননি।“

অতীতের মতো অসাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় গণতন্ত্রকে বাধাগ্রস্ত করার যেকোনো ষড়যন্ত্র সম্পর্কে দেশবাসীকে সজাগ ও ঐক্যবদ্ধ থাকার জন্যে বিবৃতিতে ৫১জন বিশিষ্ট নাগরিক আহ্বান জানান।

বিবৃতিদাতারা হচ্ছেন- অধ্যাপক জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী, শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী, সৈয়দ শামসুল হক, শিল্পী হাশেম খান, শামসুজ্জামান খান, কামাল লোহানী, বিচারপতি (অব.) মেজবাহ উদ্দন আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্য অধ্যাপক প্রাণগোপাল দত্ত, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. আবুল বারাকাত, অধ্যাপক আবদুল খালেক, অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, কবি বেলাল চৌধুরী, রামেন্দু মজুমদার, মামুনুর রশীদ, সেলিনা হোসেন, কবি নির্মলেন্দু গুণ, কবি মহাদেব সাহা, ড. হারুন-অর-রশিদ, অধ্যাপক খন্দকার বজলুল হক, স্থপতি রবিউল হুসাইন, সুরকার সুজেয় শ্যাম, সাংবাদিক ইকবাল সোবহান চৌধুরী, অভিনেতা-পরিচালক নাসিরউদ্দীন ইউসুফ, লেখক-সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির, শিল্পী ফেরদৌসী প্রিয় ভাষিণী, ড. মুহাম্মদ সামাদ, শহীদ জায়া শ্যামলী নাসরীন চৌধুরী প্রমুখ।

===============================

২৮ আগস্ট ২০১২, মঙ্গলবার

The government is yet to write back to US Secretary of State Hillary Clinton who recently expressed concern over the amendment to Grameen Bank Ordinance.

“We got the letter from her and we are yet to respond to that,” Foreign Minister Dipu Moni told bdnews24.com on Sunday evening. She would not say when they would do so. “It is under consideration.”

Clinton wrote to Prime Minister Sheikh Hasina in the second week of August expressing her concern over the recent changes to Grameen Bank ordinance, which empowers the Chairman of the bank to constitute a selection committee for appointing the chief executive of the microlender.

Dipu Moni said international concerns over Grameen Bank were ‘misplaced’ and based on ‘wrong perception’.

“The government will take steps to allay the concern of friendly countries. We will present the truth whenever we will have the opportunity to discuss the issue with our friends,” she said.

She hoped that since the text of the amendment being is in the public domain, it would pacify international concerns.

The minister alleged that “a smear campaign was rallied before the ordinance was promulgated and the concern was based on the propaganda”.

“What was conveyed to them was that the government wants to take over Grameen Bank but that is not the case,” she asserted.

The government was determined to appoint Managing Director to the bank, which is also a statutory organisation, in a transparent manner, she explained.

Moni also made it clear that the appointment of Managing Director was an internal affair of Bangladesh.

“It is also a very trifling matter. It is not normal that the international media has raised a hue and cry,” she said.

The New York Times published three articles on Bangladesh from Aug 22 to 24 and one of them is on the Grameen Bank.

Law Minister Shafique Ahmed last week termed former Managing Director Muhamad Yunus’s comment about the amendment ‘politically motivated’ in an echo of similar allegations by Finance Minister AMA Muhith and ruling coalition leaders.

Speaking to bdnews24.com, Shafique had said Yunus was running a ‘smear campaign’ against the government.

The government published the amendment regarding appointment of the Managing Director in a gazette notification on Wednesday. In a statement, Yunus later said the day would be written as a ‘black day and accused the government of stripping the Nobel-prize winning organisation of its independence and achievements.

Shafique said a small amendment had been made to make the process of appointing Managing Director more transparent.

Yunus had been the chief executive since the Grameen Bank was established in 1983 through a martial law ordinance. Yunus was nearly 71 when the Bangladesh Bank relieved him of the position for being past 60 in a notice in March 2011. He went to the court and lost a series of legal battles.

The government refused to bow down to pressure from the US and international donor organisations to reappoint Yunus. It also ruled out a proposal to form a committee, led by Yunus, to look for a new Managing Director.

In 2006, Yunus shared the Nobel Peace Prize with the Grameen Bank for their initiative to provide micro-credit for poverty alleviation. Four years later, both were flung into made gaze after a Norwegian TV documentary revealed that country’s aid agency Norad’s annoyance in the late 1990s over Yunus’ handling of aid money meant for the Bank.

The documentary revealed illegal transfer of money from the account of Grameen Bank. The documentary led the government to form a committee to scrutiny the activities of the bank which revealed widespread irregularities in the activities.

=================================

২৯ আগস্ট ২০১২, বুধবার

২৯ প্রশ্নের উত্তর দিতে ২৯ কোটি বার মুখ খুলেও গ্রামীণ ব্যাংকের আর কিছু হবে না। এটা মুহাম্মদ ইউনূসই সবচেয়ে ভাল জানেন যে ২০০৬ সালেই ইউনূস-গ্রামীণ যুগ শেষ হয়ে গেছে, ২০০৭ থেকে চলছে ইউনূস-শক্তি যুগ, সে যুগেরও প্রায় পাঁচ বছর তিনি কাটিয়ে দিয়েছেন — পেয়েছেন দই, জুতো, মশারি আরো অনেক আন্তর্জাতিক সামাজিক ব্যবসা, এখন এ শক্তিযুগের আর কী কী ফসল তার ঘরে উঠবে তার জন্যই তিনি এখন কাজ করছেন। এই শক্তিযুগে রাষ্ট্রশক্তি দখলও তার এজেন্ডায় আছে তাও তিনি পরিস্কার করেছেন তার ‘কালোদিননামা‘য়।

==================================

৬ সেপ্টেম্বর ২০১২, বৃহস্পতিবার

একথা

A soial business is a non-loss, non-dividend company

এবং একথা

The Grameen Bank is the first social business.

পড়ে সবকিছুর পরও এই আস্থাটা ছিল, আচ্ছা গ্রামীণ ব্যাংকই প্রথম সামাজিক ব্যবসা — এই ব্যবসায় ক্ষতি নেই ডিভিডেন্ড নেই। কিন্তু এখন ইউনূস সেন্টার বলছে গ্রামীণ ব্যাংক শেয়ার হোল্ডারদের ডিভিডেন্ড দেয়। কী যাদু করিলা কী সামাজিক ব্যবসা শিখাইলা!

০৫. প্রশ্নঃ যদি শেয়ারহোল্ডার থেকে থাকে, তবে কোনদিন তাদেরকে ডিভিডেন্ড দেয়া হলো না কেন? মুনাফার টাকা কি প্রফেসর ইউনূস এবং তার সঙ্গী-সাথীরা তাহলে হজম করে ফেলেছেন?
উত্তরঃ গ্রামীণ ব্যাংক বরাবর শেয়ারহোল্ডারের ডিভিডেন্ড দিয়ে এসেছে। গ্রামীণ ব্যাংকের প্রত্যেক সদস্য যেকোন সময় ১০০ টাকা দিয়ে গ্রামীণ ব্যাংকের একটি শেয়ার কিনতে পারেন। ৮৪ লক্ষ ঋণ গ্রহীতাদের মধ্যে ৫৫ লক্ষ ঋণ গ্রহীতা এ পর্যন্ত শেয়ার কিনেছেন। এর মাধ্যমে তারা ৫৫ কোটি টাকার শেয়ার কিনে ৯৭ শতাংশ মূলধনের মালিক হয়েছেন। সরকার ও সরকারি ব্যাংক ১ কোটি ৮০ লক্ষ টাকার শেয়ার কিনে ৩ শতাংশ শেয়ারের মালিক।

এপর্যন্ত গ্রামীণ ব্যাংক সরকারকে ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকার শেয়ারের বিনিময়ে ২ কোটি ৫২ লক্ষ টাকা, সোনালী ব্যাংক ও কৃষি ব্যাংককে প্রত্যেকে ৩০ লক্ষ টাকার শেয়ারের বিনিময়ে ৬৩ লক্ষ টাকা লভ্যাংশ দিয়েছে।

সদস্যরা ৫৫ কোটি টাকার শেয়ারের বিনিময়ে ৭৭ কোটি টাকা লভ্যাংশ পেয়েছেন (সদস্যরা তুলনামূলকভাবে কম পেয়েছেন, যেহেতু ২০০৬ সালের পরবর্তী সময়ে যারা শেয়ার কিনেছেন তারা অপেক্ষাকৃত কম সময়ের মেয়াদে লভ্যাংশ পেয়েছেন)। প্রত্যেক সদস্যকে প্রতি বছর লভ্যাংশ তার কাছে পৌঁছে দেয়া হয়।

=============================

৫ সেপ্টেম্বর ২০১২, বুধবার

১. গ্রামীণ ব্যাংকের বার্ষিক প্রতিবেদনগুলো দেখতে গিয়ে দেখলাম, গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে পরিচয়হীন কিছু লোকের উপস্থিতি — এরা কিভাবে পরিচালনা পর্ষদে স্থান পেয়েছিল কেউ জানেন?

GB84firstDD
১৯৮৪ সালের পরিচালনা পর্ষদ : কে ছিলেন এই তাহেরুন্নেসা আবদুল্লাহ? ঠিকানা ছাড়া আর কোনো পরিচয় নেই।

GB90DD
এটি নব্বই সালের একজন এডভোকেট এবং একজন প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর কিভাবে পরিচালনা পর্ষদে?

২. গ্রামীণ ব্যাংকের শুরু থেকে পরিচালনা পর্ষদে বিভিন্ন ভূমিহীন সমিতির মনোনীত সদস্য নারী ও পুরুষরা থাকতেন। ২০০৫ সাল থেকে পরিচালনা পর্ষদে ব্যাংকের ঋণগ্রহীতা সদস্যদের দেখা যেতে থাকে।

GB89DD
এটা ৮৯ সালের নারী পুরুষ উভয়ে আছে। এখানেও একজন উকিল আছেন এবং ধানমন্ডির একজন ডক্টর আছেন।

GB04DD
এটা ২০০৪ সালের ভূমিহীন সমিতি কিন্তু এখন শুধু নারীরা পরিচালনা পর্ষদে।

GB05DD
এটা ২০০৫ সালের এখন থেকে ঋণগ্রহীতা সদস্যরা পরিচালনা পর্ষদে।

==========================

৭ সেপ্টেম্বর ২০১২, শুক্রবার

আমেরিকায় সফররত বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে প্রথম বাংলাদেশ-আমেরিকা পার্টনারশিপ ডায়লগের (এমাসের ১৮/১৯ তারিখের দিকে যা আনুষ্ঠানিকভাবে আমেরিকায় অনুষ্ঠিত হবে) প্রস্তুতির আলোচনায় আমেরিকার সরকারের পক্ষ থেকে আবারও গ্রামীণ ব্যাংক ইস্যুতে তাদের উদ্বেগের প্রসঙ্গ তোলা হয়েছে। এখন থেকে মার্কিন সরকার মাইক্রোসফট অ্যাপল বা এরকম কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম তদন্ত করতে গেলেই আমরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করব এবং বারবার মার্কিন সরকারকে আমাদের উদ্বেগের কথা মনে করিয়ে দেব? ওদের ভাবসাব দেখে তো তাই করতে হবে মনে হচ্ছে। যেকোনো রাষ্ট্রের তার ভূখণ্ডের দেশিবিদেশি যেকোনো প্রতিষ্ঠানের বা তার ভূখণ্ড থেকে উদ্ভূত যেকোনো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম তদন্তের অধিকার সেরাষ্ট্রের সরকারের আছে : গণতন্ত্রের পীঠস্থানের যদি সেকথা মনে না থাকে তবে তাকে বারবার সেকথা মনে করিয়ে দিতে হবে।

US reiterates concern for GB
The United States Wednesday reiterated its concern for the Grameen Bank (GB), as the authorities concerned are going ahead to appoint a new managing director (MD) for the organisation.

The US concern was renewed when Deputy Secretary of State William J Burns met visiting Bangladesh Foreign Minister Dipu Moni in Washington, according to a statement released from the US Embassy in Dhaka Thursday.

“Deputy Secretary Burns and Foreign Minister Moni also discussed the US concerns about maintaining the effectiveness and integrity of the Grameen Bank,” the statement said.

Nobel Laureate Dr Muhammad Yunus, who founded by the GB and shared Nobel Peace Prize with it in 2006, was relieved of the post of the bank’s MD last year on the ground of age. Recently the government-appointed acting chairman has been empowered to select a new MD for the GB.

The talks between the duo also included opportunities for expansion of bilateral trade, and the role of a vibrant civil society and strong democratic institutions in social and economic development of Bangladesh.

The deputy secretary of state lauded the existing bilateral relations and the strong partnership between the US and Bangladesh.

Burns also commended Bangladesh for its support to Afghanistan, and its pivotal role in promoting cooperation and connectivity within the south and south-east Asian regions, said the US Embassy statement.

Meanwhile, the Bangladesh Embassy in Washington in a news release said Foreign Minister Dipu Moni clarified Bangladesh government’s stance on the Grameen Bank.

“Prime Minister Sheikh Hasina is pledge-bound to protect the interest of the women clients of the Noble Prize-winning micro-lending institution. The GB is being run under the rules of its own” the statement quoted Dipu Moni as saying in the meeting with Mr Burns.

Both the ministers also hoped success of the ensuing Bangladesh-US Partnership Dialogue due later this month, the news release said.

===========================

১১ সেপ্টেম্বর ২০১২, মঙ্গলবার

টুইটারে ইউনূস সেন্টারের হ্যান্ডেল তো ইউনূসের হয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেই, সেসাথে একটা নতুন হ্যান্ডেল সেভ গ্রামীণও দেখি কয়েকদিন থেকে সক্রিয় হয়েছে। তাদের কাজ কী? তাদের ভাষায়

@Yunus_Centre Thx 4the RTs. We R trying 2make intl community aware of injustice in Bangladesh. Ur followers should follow us 4latest updates

Muhammad Yunus ‏@Yunus_Centre

@Save_Grameen thx for the great work!

এই সেভ গ্রামীণের একটা টুইট আমাকে খুব হাসিয়েছে।

Dear @StateDept, thx for cvrge on Aug5 abt concern 4 #Grameen: http://1.usa.gov/PXwQZSCan we get an update abt HClinton’s nxt steps? Pls RT

=================================

১১ সেপ্টেম্বর ২০১২, মঙ্গলবার

এ কে মনোওয়ারউদ্দিন আহমদ, ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের স্কুল অব বিজনেসের অধীন অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান, গত বছর গ্রামীণ ব্যাংকের অনিয়ম অনুসন্ধানের জন্য গঠিত রিভিউ কমিটির প্রধান ছিলেন, তিনি বিডিনিউজ২৪.কমের মতামত-বিশ্লেষণে গ্রামীণ ব্যাংকের অনিয়ম ও ইউনূস প্রসঙ্গে একটি বিশদ লেখা লিখেছেন। লেখাটি তিনি শেষ করেছেন এভাবে।

মজার ব্যাপার হল, বাংলাদেশের একটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগ নিয়ে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় হল, এর কারণ কী? হিলারি ক্লিনটন এ দেশে এসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সভাটি করেছেন ড. ইউনূস ও ফজলে হাসান আবেদের সঙ্গে। তার মানে কী? একসময় গ্রামের মহাজনরা যে ব্যবসা করতেন সেটা এখন এরা করছেন। ক্ষুদ্রঋণও একটি ব্যবসা। তাহলে এখানে কোনও স্বার্থ কি নেই? নইলে বাংলাদেশের এক ব্যাংকের এমডি’র পদ নিয়ে বিশ্বজুড়ে এত হুল্লোড় কেন?

আমরা যে সুপারিশগুলো করেছি তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটির কথা উল্লেখ করছি। একটি কমিশন বা কমিটি করার কথা বলেছিলাম। কমিশন গঠিত হয়েছে এবং সেটি কাজ করছে। আমাদের সুপারিশ ছিল অবশ্য কোনও স্বাধীন রেগুলেটরের হাতে গ্রামীণ ব্যাংকের দায়িত্ব দেওয়া। বাংলাদেশ ব্যাংককে মনিটারি পলিসি নিয়ে অনেক ব্যস্ত থাকতে হয়। তাই অন্য কোনও রেগুলেটর এ দায়িত্বটা পালন করলে বেশি ভালো হত।

গ্রামীণ নামের যত প্রতিষ্ঠান আছে সেগুলোর সমন্বয়ের জন্য গ্রামীণ ব্যাংকের আইনি কাঠামোতে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে হবে। সেটা যত দ্রুত করা যায় তত ভালো। এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে শেষ করে দেওয়া আমাদের উদ্দেশ্য নয়। কারণ এগুলো তো সমাজের কোনও কোনও চাহিদা পূরণ করছে।

তাছাড়া সামাজিক ব্যবসা ও ক্ষুদ্রঋণকে সমন্বয় করে একটি জাতীয় নীতি করতে হবে। এটা রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ব্যাপার। আমরা সুপারিশে লিখেছি, পরিবর্তিত অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে ক্ষুদ্রঋণ ও সামাজিক ব্যবসাকে সমন্বয় করে বৈধতা দেওয়া দরকার।

সমস্যা হল, গ্রামীণ টেলিকম তো গ্রামীণ ফোনের ৩৫ শতাংশের মালিক। এরা হাজার হাজার কোটি টাকার মুনাফা করছে। এখন কথা হল, দুস্থ মহিলারাই যদি গ্রামীণ ব্যাংকের মালিক হন, তারা কি এই লাভের টাকার অংশীদার হচ্ছেন? হওয়া সম্ভব নয়, কারণ কোনওটিতে গ্রামীন ব্যাংকের মালিকানা কিন্তু নেই।

প্রশ্ন উঠতে পারে, আজ যদি ক্ষুদ্রঋন না থাকত তাহলে কী হত? গ্রামীণ দারিদ্র্য বিমোচনে ক্ষুদ্রঋণের অবদান বেশি, নাকি নতুন নতুন শিল্পস্থাপনের ফলে দারিদ্র্য কিছুটা দূর হয়েছে? যারা ক্ষুদ্রঋণের পক্ষে বলছেন তারাও স্বীকার করছেন দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য এটা কোনও ‘মহৌষধ’ নয়, এটা একটা সোশ্যাল সেফটি নেট বা সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা মাত্র। একজন নারী গার্মেন্টসে কাজ করলে সেটা তার জীবনেই মৌলিক পরিবর্তন এনে দেবে। আবার ক্ষুদ্রঋণ নিয়ে যে নারী কিছু করছেন সেটাও একটা পরিবর্তন আনছে তার জীবনে। আরেকটি বিষয় হল মহাজনরা একসময় অনেক-অনেক বেশি উচ্চহারে সুদ ধার্য করত। সে তুলনায় গ্রামীণ ব্যাংকের ৩০ শতাংশ সুদের হার তেমন বেশি নয় কিন্তু। তাই ক্ষুদ্রঋণ দেওয়ার জন্য এনজিওগুলো এগিয়ে না এলে ওই মহাজনদের দাপটে দরিদ্রদের পক্ষে টিকে থাকা সম্ভব ছিল না।

আসলে আমাদের মতো দেশগুলোতে রাষ্ট্র দুর্বল। সরকারও তাই। যে কেউ বলতে পারেন, গ্রামীণ দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য শিল্পস্থাপন করলেই হয়, সরকার নিজেও নানাভাবে দরিদ্রদের সাহায্য করতে পারেন। কিন্তু ওই যে বললাম দুর্বল রাষ্ট্র বা সরকার কাঠামো দিয়ে সব সমস্যার সমাধান হবে না। তাই দরকার কিছু প্রতিষেধক ব্যবস্থা। ক্ষুদ্রঋণ তেমনই একটি ‘প্রতিষেধক,’ ‘মহৌষধ’ নয়। পশ্চিমা দেশগুলোও এ জন্যই এদের একভাবে মূল্যায়ন করে। গ্রামীণ দরিদ্রদের জন্য সরকার যে কাজগুলো দুর্নীতি বা অন্যান্য কারণে করতে পারে না সেখানে এনজিওগুলো ক্ষুদ্রঋণ বা অন্যান্য সাপোর্ট দিয়ে দরিদ্রদের টিকিয়ে রাখছে।

তাই আমার ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ হল, ড. ইউনূস এবং গ্রামীণ ব্যাংকের অবদানকে খাটো করে দেখার কোনও সুযোগ নেই। কারণ গ্রামীণ ব্যাংক দরিদ্র এলাকাগুলোতে কাজ শুরু করার পর থেকে মহাজনরা বিদায় নিয়েছে। এরা একসময় উচ্চসুদে টাকা ধার দিয়ে বিশাল ব্যবসা করেছে। গ্রামীণ ব্যাংকের সুদের হার ৩০ থেকে সর্বোচ্চ ৩৫ শতাংশ। এটা অর্থনীতির দিক থেকে দেখলে খুব বেশি নয়। অবশ্য সমাজবিজ্ঞানী ও নৃতাত্ত্বিক ড. লামিয়া করিম বলছেন, নানাভাবে জোর-জবরদস্তি করে, হীন সব উপায় প্রয়োগ করে গ্রামীণ ব্যাংকের ঋণের কিস্তি আদায় করা হচ্ছে। নানা সমালোচনা আছে এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।

আমার বিবেক তবুও বলছে, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে এই ব্যাংকের অবদানের কথা অস্বীকার করা যাবে না। সুস্পষ্টভাবেই আমরা গ্রামীণ ব্যাংকের বিরুদ্ধে নই। কারণ এটা তো আমাদেরই প্রতিষ্ঠান। এখন কীভাবে এই প্রতিষ্ঠান এবং এর সঙ্গে সংযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে শৃঙ্খলায় এনে এগুলোকে সত্যিকারের জনকল্যাণমুখী করা যায় এটাই হল আগামীর চ্যালেঞ্জ।

বিস্তারিত পড়ুন : গ্রামীণ ব্যাংক, অনিয়ম ও ড. ইউনূস

=================================

১৯ অক্টোবর ২০১২, শুক্রবার

ইউনূস সেন্টার তো অনেক প্রশ্নের উত্তর দেয়, জানি না এপ্রশ্নের উত্তর কী দেবে / কি দেবে?

====================================

১১ নভেম্বর ২০১২, রবিবার

বিকৃত খবরের জন্য অমর্ত্যের কাছে ক্ষমা
আবুল মাল আবদুল মুহিত

গত ৮ নভেম্বর শেরেবাংলা নগরস্থ পরিকল্পনা কমিশনে ৬ষ্ঠ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার পর্যালোচনা, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন সম্বন্ধে একটি বৈঠক হয়। এই বৈঠকে প্রতিভাত হয় যে গত দুই বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতির গতিপ্রকৃতি ছিল প্রশংসনীয়। বিশ্বমন্দার তিন বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি এক-চতুর্থাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু ৬ষ্ঠ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দুইটি দুর্বলতা অত্যন্ত প্রকট। প্রথমটি হচ্ছে যে, বিশ্বমন্দার কারণে বিনিয়োগ স্থবির হয়ে আছে এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ অত্যন্ত নিম্নমানের। আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে যে, মূল্যস্ফীতি প্রাক্কলনের তুলনায় বেশি, যদিও সেখানে প্রশমনের ইঙ্গিত ইতিবাচক। এখানে উল্লেখ্য যে, ত্বরান্বিত উন্নয়নে মুদ্রাস্ফীতি সচরাচর বেশি হয়।

আমি সেই সভায় অংশগ্রহণ করি এবং সভা শেষ হওয়ার আগেই অন্য কাজে চলে যাই। সে সময় আমি সাংবাদিকদের সঙ্গে কিছু মতবিনিময় করি। অর্থমন্ত্রী হিসেবে আমি সেখানে বিনিয়োগের স্থবিরতা নিয়ে আমার বক্তব্য রাখি। আমি বলি যে, বাংলাদেশে সম্পদের স্বল্পতাহেতু বিনিয়োগ আশাপ্রদ নয়। দুর্ভাগ্যবশত অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগও খুব কম হচ্ছে।

নোবেল বিজয়ী অমর্ত্য সেনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলি যে, আমার সঙ্গে কিছুদিন আগে একটি আলোচনায় অমর্ত্য সেন দুঃখ করেন যে, বাংলাদেশে নানাক্ষেত্রে লক্ষণীয় অগ্রগতি হচ্ছে কিন্তু সেই তথ্য আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে প্রাধান্য পাচ্ছে না। এই বিষয়ে কিছুদিন আগে জনকণ্ঠের নির্বাহী সম্পাদক স্বদেশ রায় একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। স্বদেশ রায় আমার সঙ্গে ব্যাংকক বিমানবন্দরে এই আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।

আমি বলি যে, বৈদেশিক বিনিয়োগ যে বাংলাদেশে উচ্চহারে আসছে না তার বিভিন্ন কারণ রয়েছে, যদিও মুডি’স বা এস এন্ড পি বাংলাদেশের ক্রেডিট রেটিং ভাল বিবেচনা করে। বাংলাদেশে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বেশি। বিভিন্ন সেবা পেতে অনেক সময় লাগে। দুর্নীতিও এর একটি প্রতিবন্ধক। সর্বোপরি, বাংলাদেশে ব্যবসা করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। আমি সবসময়ই বলে যাচ্ছি যে জ্বালানী স্বল্পতা এবং বিদ্যুতের সংকট বিনিয়োগে প্রবৃদ্ধির পরিপন্থী। একই সঙ্গে বলেছি যে এই সমস্যাটি আপাতত নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং ২০১৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশের উৎপাদন ক্ষমতা ৯ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছবে। বাংলাদেশ ইতিমধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে এইটি হবে এই এলাকার ট্রানজিট দেশ। এবং তাতে এই এলাকাটি একটি অর্থনৈতিক কেন্দ্রস্থলে পরিণত হবে। সেই হিসেবে বর্তমানে বৈদেশিক বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ অত্যন্ত আকর্ষণীয় এলাকা। মনে রাখা দরকার যে ২০০৮ সালে বিশ্বব্যাপি যে মন্দা দেখা দেয় তাতে তিনটি খাতই ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই খাতগুলো হচ্ছে বিনিয়োগ, রফতানি এবং কর্মসংস্থান। এই অবস্থা মোকাবেলা করে বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬%-এর ঊর্ধ্বে রাখা সম্ভব হয়েছে। বিনিয়োগের হার অন্তত ২৪-২৫%-এ ধরে রাখা গেছে। এবং কর্মসংস্থানেও কোন ধ্বস হতে দেওয়া হয়নি। এই পরিপ্রেক্ষিতে সরসারি বৈদেশিক বিনিয়োগে আরো জোর পাওয়া উচিত।

আমি আমার ৮ তারিখের একটি বক্তব্যে বলি যে অধ্যাপক ইউনুসের নেতিবাচক অবস্থান এবং প্রচার বাংলাদেশে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগের (DFI) পরিপন্থী। এবং তার প্রচারে পুরোপুরি সততা নেই। গত দুই বছর ধরে অধ্যাপক ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংকের ভবিষ্যত নিয়ে অনবরত আশংকা প্রকাশ করে যাচ্ছেন এবং প্রচার করছেন যে সরকার এই উদ্যোগটিকে ধ্বংস করতে চায়। এই প্রচারের সঙ্গে বাস্তবতার কোন সম্পর্ক নেই এবং এইটি দেশের জন্য বেশ ক্ষতিকারক। এই অভিমতটি আমার ব্যক্তিগত অভিমত এবং এ নিয়ে আমি অন্য কারো সংগে আলোচনা করি নি। এ সম্বন্ধে অমর্ত্য সেন কোনো মন্তব্য করেননি, তার বক্তব্য ছিল বাংলাদেশের দ্রুত উন্নয়ন নিয়ে। আমাদের সংবাদ মাধ্যমের কেউ কেউ বুঝে বা না বুঝে দুটো বিষয়কে সম্পৃক্ত করে এ সম্বন্ধে বিকৃত এবং বানোয়াট বক্তব্য রেখেছেন। পুরো বক্তব্যটি ভিডিওতে ধারণ করা হয় এবং সেইটি যথাযথভাবে ইলেকট্রনিক মাধ্যমে ও অনেকগুলো সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। কেউ কেউ অহেতুক অমর্ত্য সেনের আলোচনার সঙ্গে অধ্যাপক ইউনূসের নাম সংযুক্ত করেছেন।

আমি বলি যে, অধ্যাপক ইউনূস-এর সমস্যা হচ্ছে তিনি কোনমতেই গ্রামীণ ব্যাংক ছাড়তে চান না। তিনি সেখানে তার প্রভাব এবং কর্তৃত্ব বহাল রাখতে সচেষ্ট। প্রশ্নোত্তরে আরও বলি যে অধ্যাপক ইউনূস-এর প্রচারযন্ত্র অত্যন্ত শক্তিশালী এবং অধ্যাপক ইউনূস-এর আন্তর্জাতিক খ্যাতি তার পক্ষে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। এ ছাড়া আমরা সকলেই তাকে নিয়ে গর্ববোধ করি, আন্তর্জাতিকভাবে তার গ্রহণযোগ্যতা অতি উচ্চমার্গের। ব্যক্তিগতভাবে আমি তাকে একজন বন্ধু ও শ্রদ্ধেয় মানুষ এবং দারিদ্র্য বিমোচনে নিবেদিত জনদরদী হিসেবে সম্মান করি।

আমি অত্যন্ত দুঃখিত যে অমর্ত্য সেনের বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রশংসাসূচক বক্তব্যে অহেতুক অধ্যাপক ইউনূসের নামটি সংযুক্ত হয়েছে এবং সেজন্য আমি অমর্ত্য সেনের কাছে বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমের বিকৃত খবর প্রচারের জন্য ক্ষমা চাইছি। আমি মনে করি যে অমর্ত্য সেন বাংলাদেশের একজন অত্যন্ত একনিষ্ঠ শুভানুধ্যায়ী এবং বাংলাদেশের কৃতিত্বের বিষয় তিনি সবসময়ই আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সাগ্রহে তুলে ধরছেন।

আমি সবসময় বলে এসেছি যে অধ্যাপক ইউনূস আমাদের দেশের অত্যন্ত সম্মানিত ব্যক্তি এবং তিনি এদেশের ক্ষুদ্রঋণের ব্যাপক প্রসার সাধন করেছেন। গরীব মানুষকে আত্মসম্মানে ভূষিত করেছেন এবং দারিদ্র্য বিমোচনে মূল্যবান অবদান রেখেছেন। তিনি নারীমুক্তিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। প্রায় ৩০ বছরের অক্লান্ত ও একনিষ্ঠ পরিশ্রমে গ্রামীণ ব্যাংককে তিনি একটি শক্ত অবস্থানে প্রতিষ্ঠা করেন। ব্যক্তিগতভাবে এই উগ্যোগকে নানাদেশে ছড়িয়ে দিতে আমি নিজেও সচেষ্ট ছিলাম। মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া এবং নেপালে গ্রামীণ মডেলের বিস্তৃতিতে আমি ব্যক্তিগতভাবে সহায়ক ভূমিকা রেখেছি। গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠার সঙ্গেও আমার কিছুটা সংশ্লিষ্টতা ছিলো।

গ্রামীণ ব্যাংক-এর নিজস্ব বিধি অনুযায়ী অধ্যাপক ইউনূস ৬০ বছর বয়সের পরে আর ব্যবস্থাপনা পরিচালক থাকতে পারেন না, এই বিধিমালা অধ্যাপক ইউনূসই প্রণয়ন ও প্রকাশ করেন। কিন্তু গ্রামীণ ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদ তাকে ১৯৯৯ সালে অনির্দিষ্টকালের জন্য ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োজিত করে। এই নিযুক্তি অবৈধ ছিল। এই অনিয়ম বাংলাদেশ ব্যাংক ২০০১ সালেই চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। কিন্তু অধ্যাপক ইউনূস সম্মানিত ব্যক্তি ও বাংলাদেশের নয়নের মনি বলে এ ব্যাপারে পরবর্তী কোন পরিচালনা পর্ষদ বা সরকার এবিষয়ে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। তারা হয়তো ধারণা করেন যে, তিনি স্বতোপ্রবৃত্ত হয়ে অধ্যাপক ইউনূস আইনের শাসন বহাল করবেন।

২০১০ সালের নভেম্বরে গ্রামীণ ব্যাংক বিশ্ব সংবাদ মাধ্যমে নরওয়ে টেলিভিশনের এক প্রামাণ্যচিত্রের ফলে বিশ্বব্যাপি দৃষ্টি আকর্ষণ করে। বাংলাদেশে তখন এই বিষয়ে একটা তদন্ত করার দাবি ওঠে এবং অধ্যাপক ইউনূসও তা সমর্থন করেন। এই বিষয়ে অর্থমন্ত্রী হিসেবে আমি আমার দায়িত্বের অংশ হিসেবে একটি পর্যালোচনা কমিটি (অধ্যাপক ইউনূসের প্রতি সম্মান দেখিয়ে তদন্ত কমিশনের পরিবর্তে ‘পর্যালোচনা’ কমিটি) গঠন করি এবং অধ্যাপক ইউনূস-এর সঙ্গে বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সুরাহা করার উদ্যোগ নেই। আমি অধ্যাপক ইউনূসকে প্রস্তাব দেই যে, তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করলে তাকে গ্রামীণ ব্যাংকের সাথে আজীবন সম্পর্ক রাখার একটি সুযোগ সৃষ্টি করা যেতে পারে। অধ্যাপক ইউনূস সেই সুযোগটি গ্রহণ না করে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

পরিবর্তে অধ্যাপক ইউনূস আমাকে বলেন যে তিনি গ্রামীণ ব্যাংক ছাড়লে প্রতিষ্ঠানটি ধ্বংস হয়ে যাবে (“Grameen Bank will collapse”)। তার এই বক্তব্য আমাকে শুধু ব্যথিতই করেনি বরং গভীরভাবে হতাশ করে। আমি ভাবলাম যে আমার আদর্শ ও শ্রদ্ধেয় বন্ধু তিরিশ বছরে কী করলেন। আমি আমার হতাশা অধ্যাপক ইউনূসকে তখনি জানিয়ে দেই। অধ্যাপক ইউনূস তখন আদালতের আশ্রয় নেন এবং আদালতের রায় হওয়ার পর পদত্যাগ করেন। তারপরেই কিন্তু অধ্যাপক ইউনূস অনবরত বলে বেড়াচ্ছেন যে সরকার গ্রামীণ ব্যাংক দখল করতে চায়। যদিও সরকার থেকে বারবারই বলা হয়েছে যে গ্রামীণ ব্যাংক যেভাবে পরিচালিত হচ্ছে সেইভাবেই পরিচালিত হবে। গ্রামীণ ব্যাকের চালিকাশক্তি তার শাখা পর্যায়ে বিকেন্দ্রায়িত ব্যবস্থা, এবং এই ব্যবস্থাই এই প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। অধ্যাপক ইউনূস-এর সমর্থকদের প্রচারে গ্রামীণ ব্যাংক থেকে এক সময় অনেক আমানত তুলে নেয়া হয় এবং গ্রামীণ ব্যাংক-এর কার্যক্রম পরিচালনায় অসুবিধা সৃষ্টি হয়। সেই অবস্থা উত্তরণে প্রায় এক বছর অতিবাহিত হয় এবং ২০১১ সালে গ্রামীণ ব্যাংক-এর কার্যক্রম ব্যাপকভাবে প্রসার লাভ করে, সদস্যদের সঞ্চয়ও বাড়ে এবং বাস্তবে ঋণ আদায়ও ভাল হয়। ক্ষুদ্রঋণ এখন শুধুমাত্র গ্রামীণ ব্যাংক এবং ব্র্যাক দেয় না অথবা আশা এবং প্রশিকাই জনপ্রিয় প্রতিষ্ঠান নয়। বিশেষ করে পল্লী-কর্মসহায়ক সংস্থার উদ্যোগে আরও অসংখ্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এই ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। সরকারও ক্ষুদ্রঋণ প্রসারে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও এই বিষয়ে সক্রিয় হয়েছে। ক্ষুদ্রঋণের জন্য যে আগাম প্রতিবছর দেয়া হয় এটা এখন তৃতীয় স্থানে, চলতি ঋণ এবং বানিজ্যিক ঋণের পরেই, অবস্থান করে। ২০১১-১২ অর্থবছরে প্রায় সাড়ে ৩৩ হাজার কোটি টাকার ক্ষুদ্রঋণ বাংলাদেশে বিতরিত হয়েছে, যাতে গ্রামীণ ব্যাংকের হিস্যা হলো ১১ হাজার কোটি টাকা। ক্ষুদ্রঋণকে গ্রামীণ ব্যাংক এবং ব্র্যাক এই দেশে একটি শক্ত অবস্থানে নিয়ে এসেছে এবং সরকার এই অবস্থানটিকে আরও শক্ত রাখতে বদ্ধপরিকর। একইসঙ্গে মহিলাদের উন্নয়নে গ্রামীণ ব্যাংক যে ভূমিকা রেখেছে সেই ভূমিকা এই সরকার আরও শক্তিশালী এবং বেগবান করছে। নারীশক্তির ক্ষমতায়নে অবদানের জন্য বাংলাদেশ বিশ্ব স্বীকৃতি লাভ করেছে।

গ্রামীণ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী গ্রামীণ পরিচালনা পর্ষদ ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিযুক্তির জন্য একটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করে। এই কাজটি গত দেড় বছরে করা সম্ভব হয়নি। অধ্যাপক ইউনূস-এর সমর্থকরা দাবি করেন যে এই অনুসন্ধান কমিটির আহ্বায়ক হবেন অধ্যাপক ইউনূস। এই প্রস্তাবটি সরকারের কাছে গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি এবং সরকার তাদেরকে এই দাবি থেকে সরিয়ে আনতে অনেক প্রচেষ্টা গ্রহণ করে। কিন্তু গ্রামীণ ব্যাংক-এর সুষ্ঠু পরিচালনার খাতিরে উপযুক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালকের আশু নিযুক্তিও অত্যন্ত জরুরি। এই উদ্দেশ্যে সরকার এই অনুসন্ধান কমিটি নিয়োগের জন্য পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানকে ক্ষমতা প্রদান করে এবং তদনুযায়ী একটি অনুসন্ধান কমিটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং তারা তাদের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। তাদের কাজে সরকার কোন ধরনের প্রভাব বিস্তার করতে চেষ্টা করছে না এবং তাদের কাজ অত্যন্ত স্বচ্ছ এবং সুষ্ঠুভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা আশা করছি যে অচিরেই তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী একজন উপযুক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক পাওয়া যাবে।

অধ্যাপক ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংকের নামে অনেক সামাজিক উদ্যোগ প্রায় দুই দশক আগে শুরু করেন, যদিও এই পালের হাওয়ায় জোর এসেছে গত এক দশকে। শুরুতে গ্রামীণ ব্যাংকের সম্পদ এবং সবসময় গ্রামীণ ব্যাংকের নামই এই উদ্যোগকে বিকশিত করেছে। কিন্তু এইসব উদ্যোগে গ্রামীণ ব্যাংকের কোন হিস্যা ছিল না। এমনকি গ্রামীণ টেলিফোনেও গ্রামীণ ব্যাংকের কোন শেয়ার নেই। এইসব সামাজিক উদ্যোগ সার্বিকভাবে গরীবের মঙ্গলের জন্য নিবেদিত। এইসব প্রতিষ্ঠানের লভ্যাংশ কোন পরিচালক পান না এবং শুধুমাত্র কার্যক্রম প্রসারের জন্য তা ব্যবহৃত হয়। বিশেষভাবে গ্রামীণ সদস্যদের মঙ্গলের জন্য এইসব প্রতিষ্ঠান নিবেদিত নয়। অবশ্যি, “গ্রামীণ কল্যাণ” সবসময়ই অধ্যাপক ইউনূস-এর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে সাহায্য পায় এবং তারা একান্তই গ্রামীণ সদস্যদের মঙ্গলে নিবেদিত।

সামাজিক উদ্যোগের যে ব্যাপক জাল অধ্যাপক ইউনূস ছড়িয়েছেন তাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা ধরনের প্রশ্ন আছে। ইতিমধ্যে প্রায় ২০টি প্রতিষ্ঠান আর সামাজিক উদ্যোগ হিসেবে বহাল নয়। তারা হয় ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছে, অথবা দেউলিয়া হয়েছে, অথবা লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। তাদের প্রত্যেকেই কিন্তু (মোট সংখ্যা হয়তো ৫৪) গ্রামীণ ব্যাংকের সুনাম (Goodwill)-এর উপর প্রতিষ্ঠিত। এবং তাদের অনেকগুলিতে গ্রামীণ ব্যাংককে কিছু পরিচালক নিযুক্ত করতে হয়। এই প্রতিষ্ঠানগুলির অবস্থান খুবই নাজুক এবং তাদের জন্য আমাদের কোম্পানি আইন অথবা সামাজিক প্রতিষ্ঠান আইনে কোন বিশেষ ব্যবস্থা নেই। সরকার কোন প্রতিষ্ঠানেরই কার্যক্রম আটকে রাখেনি অথবা তাতে কোন নতুন পরিচালক নিযুক্ত করে নি। এগুলোর সিংহভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইউনূস যার পরিচয় গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিবন্ধিত। অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে এই বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করার উদ্দেশ্য নিয়েই সরকার এখনও কোন পদক্ষেপ নেয়নি। সরকার এই বিষয়টি সুরাহা করার জন্য বিশ্বব্যাংকের প্রতিষ্ঠান আইএফসি-কে (International Finance Corporation) অনুরোধ করে। কিন্তু তারা কোন কোন প্রতিষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট বলে এই দায়িত্বটি নিতে অসম্মতি জ্ঞাপন করে। অতঃপর এই বিষয়টি পরীক্ষা করে দেখবার জন্য একটি অত্যন্ত উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিশন সরকার গঠন করেছে। এতেও অধ্যাপক ইউনূস-এর ঘোর আপত্তি রয়েছে।

আমার ব্যক্তিগত অভিমত হচ্ছে যে অধ্যাপক ইউনূস কোনমতেই গ্রামীণের পরিচালনা তার হাত থেকে ছেড়ে দিতে রাজি নন। হয় তিনিই গ্রামীণ ব্যাংকের কোন পদে (ব্যবস্থাপনা পরিচালক না হলে পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি) অবস্থান করবেন নতুবা তার মনোনীত ব্যক্তি দায়িত্ব নেবেন। এইটিকে একটি সুস্থ, সবল এবং স্বশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাঁড় করানোর ব্রত আমি ১৯৮৩ সালে গ্রহণ করি। অধ্যাপক ইউনূস-এর গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠালগ্নে আমি (আমি তখনও অর্থ এবং পরিকল্পনা মন্ত্রী ছিলাম) তাকে পরামর্শ দেই যে তিনি যেন একটি টেকসই ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। আমি আরো বলি যে বাংলাদেশে একশ’ বছরেরও বেশি সময় ধরে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান ব্যক্তি উদ্যোগে গঠিত হয়েছে কিন্তু সবক’টিই উদ্যোক্তাদের সঙ্গে সঙ্গে লোপ পেয়েছে। এই ঐতিহ্য থেকে বেরিয়ে এসে পরিধারণযোগ্য প্রতিষ্ঠান স্থাপনের চ্যালেঞ্জ আমি তখন তাকে দেই। এবং পরবর্তীকালে নিয়মিতভাবে এ বিষয়ে অধ্যাপক ইউনূসকে স্মরণ করিয়ে দেই। বর্তমানে অর্থমন্ত্রী হিসেবে এই উদ্দেশ্যটিই সফল করার উদ্যোগ নিয়েছি। ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান টিকে থাকবে, কোন ব্যক্তির উপর নির্ভর করবে না। এখানেই আমার সঙ্গে অধ্যাপক ইউনূস-এর মতপার্থক্য।

গত তিন বছর আমাকে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রনায়ক, চিন্তাবিদ এবং অন্যান্য গুণীজন বারবার প্রশ্ন করেছেন যে অধ্যাপক ইউনূস-এর সঙ্গে বাংলাদেশ সরকার কেন ঝগড়া করছে এবং তার সঙ্গে একটা সমঝোতা কেন হচ্ছে না। আর্থিক খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং এই খাতের নেতৃবৃন্দের কাছে অর্থমন্ত্রী হিসেবে আমি সবসময়ই প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছি। তাদের প্রশ্ন ছিল যে অধ্যাপক ইউনূস-এর কারণে বাংলাদেশে বৈদেশিক সম্পদ প্রবাহ কি কোনভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। আমি প্রত্যুত্তরে সবসময়ই বলেছি যে সহজশর্তে ঋণ এবং অনুদান পেতে কোথাও কোন ঘাটতি হয় নি বরং গত তিন বছরে সরকারি সহায়তা (Official Development Assistance) ব্যাপকভাবে বেড়েছে। (কিন্তু তুলনামূলকভাবে বাস্তবায়ন ক্ষমতা তত বাড়েনি যদিও সেখানে প্রবৃদ্ধির উচ্চমাত্রা লক্ষণীয়)। কিন্তু সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ বাংলাদেশে তেমন আগ্রহ দেখায় নি। অবশ্যি, গত বছর সর্বপ্রথম বৈদেশিক বিনিয়োগ ১.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে।

আমি বিশ্বাস করি যে অধুনা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে কৃতিত্বের যে স্বীকৃতি পাওয়া যাচ্ছে (এমনকি Economist-এর প্রতিবেদনেও) তাতে বৈদেশিক বিনিয়োগ ভবিষ্যতে বাড়বে। বাংলাদেশে রাজস্ব আদায় এবং সরকারি ব্যয় তিন বছরে দ্বিগুণের বেশি হয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতি মহাচীনের পরেই এই তিন বছরে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি লাভ করেছে। বাংলাদেশে মানব-সম্পদ উন্নয়ন সূচক (HDI Index) রুয়ান্ডা ছাড়া যে কোন দেশ থেকে বেশি হারে বেড়েছে। (কতিপয় যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠার ফলে, যেমন- তিমুর, অবশ্যি এই প্রবৃদ্ধির হার অনেক বেশি)। বাংলাদেশের মত একটি গরীব দেশে সব উন্নয়ন নিজস্ব সম্পদে সম্ভব নয়। বাংলাদেশে সরকারি ব্যয় এখনও জাতীয় আয়ের মাত্র ১৮.৫% (তিন বছরে ১৫.৮% থেকে ১৮.৫% হয়েছে)। এবং বাংলাদেশে মোট বিনিয়োগ মাত্র ২৫%। এই সম্ভাবনাময় দেশটিকে এগিয়ে নেয়ার জন্য সরকারি ব্যয় অচিরেই ২০%-এ পৌঁছা উচিত। রাজস্ব আদায় ১৫%-এ পৌঁছা উচিত। এবং বিনিয়োগ ৩২%-এ পৌঁছা উচিত। এই সম্ভাবনা আগামী দুই বছরের মধ্যে বাস্তবায়িত হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

====================================

১১ নভেম্বর ২০১২, রবিবার

মানেটা বুঝতে পারলাম না। সামাজিক ব্যবসার বিউটিটা অতি সাধারণ! আসলেই তো মানেটা কী?

============================

১৮ এপ্রিল ২০১৩, বৃহস্পতিবার

যুদ্ধাপরাধীর বিচার নিয়ে মুহম্মদ ইউনূসের প্রতিক্রিয়া নিয়ে একটি ছোট্ট পোস্ট

তিনি ব্যবসাকে করেছেন সামাজিক আর যুদ্ধাপরাধীর বিচারকে করেছেন অসামাজিক।

ক্ষুদ্রঋণ আর সামাজিক ব্যবসা নিয়ে কিছু ‘সাদাসিধে কথা’

http://nirmaaan.com/blog/mohammed-munim/7058

3 Comments

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: